যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন জাস্টিস ফর জুলাই ইউকে জাতীয় দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, পত্রিকাটির কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গণমাধ্যমের প্রতি এ ধরনের অসহিষ্ণু আচরণ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছে তারা।
গতকাল রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু তালহা এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলেও দৈনিক ‘আমার দেশ’ প্রকাশনা বন্ধসহ নানা নিপীড়ন ও ক্ষতির শিকার হয়েছিল। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ক্ষমতাসীনদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে পত্রিকাটিকে মূল্য দিতে হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে গণমাধ্যমের প্রতি এমন অসহিষ্ণু আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, কোনো সংবাদমাধ্যমের সংবাদ বা সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে যুক্তি, তথ্য ও দায়িত্বশীল সমালোচনার মাধ্যমে তার জবাব দিতে হবে। পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘দৈনিক আমার দেশ’ কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার রাজনৈতিক সহকারীর এ ধরনের আচরণের বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
জাস্টিস ফর জুলাই ইউকের নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠা। এসব আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বিবৃতিতে সংগঠনটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।


























