বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন— নসরত গাজী জামে মসজিদ। স্থানীয়দের ধারণা, আনুমানিক ১৬ শতকে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রাচীন নির্মাণশৈলী ও দৃষ্টিনন্দন অলংকরণ এটিকে স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে।
জানা যায়, জনৈক নসরত গাজী এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের গায়ে একসময় একটি শিলালিপি থাকলেও বর্তমানে তা না থাকায় এর সুনির্দিষ্ট নির্মাণকাল নিশ্চিত করা কঠিন। তবে স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এটি আনুমানিক ১৬ শতকে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়।
উপজেলা সদর থেকে সড়কপথে প্রায় ১০ কিলোমিটার পূর্বে কবাই ইউনিয়নের শিয়ালঘুনী গ্রামে এর অবস্থান। শিয়ালঘুনী গ্রামের পেয়ারপুর বাজার থেকে ডিসি রোড সড়কের মধ্যবর্তী সেতু থেকে খালের পশ্চিম পাশ ধরে প্রায় ২০০ মিটার উত্তরে চৌধুরী বাড়ির প্রবেশপথের উত্তর পাশে মসজিদটি দৃশ্যমান।
এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি বর্গাকার ভূমি-পরিকল্পনায় নির্মিত। এর নির্মাণকাজে চুন-সুরকি ও পাতলা বর্গাকার ইট ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.৫০ মিটার এবং দেয়ালগুলোর পুরুত্ব প্রায় ১.৪৩ মিটার।
মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতির স্তম্ভ বা টাওয়ার রয়েছে। পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ দিকে গথিক খিলানবিশিষ্ট প্রবেশপথ দেখা যায়। এর প্রবেশপথের খিলানের নকশার সঙ্গে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদের প্রবেশপথের নকশার যথেষ্ট মিল রয়েছে, যা এর স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বর্তমানে মসজিদটির উত্তর ও দক্ষিণ দিকের প্রবেশপথ দুটি লোহার গ্রিল দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা পূর্বদিকের প্রবেশপথ দিয়েই মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন। এর অভ্যন্তরের পশ্চিম দেয়ালে একটি মিহরাব রয়েছে। দেয়াল, কার্নিশ ও স্তম্ভে ফুল এবং লতাপাতার অলংকরণ প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলেছে।
নসরত গাজী জামে মসজিদ কেবল একটি উপাসনালয় নয়, এটি বাকেরগঞ্জের প্রাচীন ইতিহাস ও মুসলিম স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। বাংলাদেশ সরকারের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ও তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই প্রাচীন স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাকেরগঞ্জের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।






















