Dhaka ০৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

নেপালের ভয়াবহ বন্যার চার সপ্তাহ পরও নিখোঁজ ছয় হাজার মানুষ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩১ বার দেখা হয়েছে

বিধ্বংসী এই বন্যার চার সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও হিমালয়ের দেশ নেপালে দুর্যোগের ক্ষত এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। দুর্গত বিভিন্ন এলাকার ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, প্রলয়ংকরী এই বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১ হাজার ৪৫১ জনে দাঁড়িয়েছে, পাশাপাশি এখনও প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে এই মারাত্মক বন্যার সূত্রপাত ঘটেছিল। অল্প সময়ের মধ্যে ভোতেকোশি নদী তীব্র বেগে ফুলেফেঁপে ওঠে এবং এর প্রবল জলস্রোতে অসংখ্য বসতবাড়ি, সড়ক, সেতু, যানবাহনসহ আস্ত জনপদ ভেসে যায়। এর ফলে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ জনপদ ও জনবহুল গ্রামগুলো পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

রোববারে প্রকাশিত নেপাল পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে আরও নতুন মরদেহ উদ্ধারের ফলে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ওই অঙ্কে পৌঁছায়। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে চিতওয়ান জেলায়, যেখান থেকে মোট ৩৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া রসুয়া জেলায় ২৩৬টি, পূর্ব নাওয়ালপারাসিতে ২৩২টি, পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে ২২২টি, নুয়াকোট জেলায় ২০৩ জন, গোরখায় ৭৯ জন, ধাদিংয়ে ৭২ জন এবং তানাহু জেলায় ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে আরও দুজন মারা গেছেন। ধ্বংসাবশেষ এবং নদীগর্ভে এখনও বহু মরদেহ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেই কারণে এক মাস পূর্ণ হওয়ার পথে থাকলেও উদ্ধার কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়া হয়নি। রসুয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীর, ধ্বংসস্তূপের গাদা, কর্দমাক্ত স্থান এবং ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে জোরেশোরে তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে রসুয়ার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কাদা ও লোহার জালের নিচে আটকে থাকা ১৭টি মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীদের গ্রাইন্ডার, গ্যাস কাটার এবং রোটরি যন্ত্রের মতো ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়েছে। এর আগে নেপাল সেনাবাহিনীর একজন ফিল্ড কমান্ডার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে সুড়ঙ্গের ভেতরে জমে থাকা বিশাল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করতেই তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যেতে পারে।

উদ্ধারকাজের পাশাপাশি বর্তমানে অন্যতম প্রধান একটি জটিল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা। দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকা এবং স্রোতের টানে ভেসে যাওয়ার কারণে বহু মরদেহ বিকৃত বা পচে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে শরীরের বিচ্ছিন্ন অংশ পাওয়া যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তকরণ দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ অজ্ঞাত মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে সেগুলোকে সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছে। সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে ডিএনএ মিললে বা পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলে এসব মরদেহ আইনানুগভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত মাত্র ১১০টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রাণহানির পাশাপাশি এই মহাদুর্যোগে নেপালের গ্রামীণ ও জনজীবন এবং সার্বিক যোগাযোগ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ এখনও নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে যেতে পারেননি এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছে। ত্রিশুলি করিডরের বিভিন্ন ঝুলন্ত সেতু নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙে যাওয়ায় নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বহু এলাকা একে অপর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যদিও সরকার ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এই সেতুগুলো মেরামতের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে, তবুও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারঘাটের মতো জরুরি সেবাগুলোয় যাতায়াত করা এখনও অত্যন্ত দুরূহ। অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ধসে যাওয়ার ফলে ত্রাণসামগ্রী এবং পুনর্গঠনের উপকরণ সময়মতো পৌঁছাতে চরম বিঘ্ন ঘটছে।

এছাড়া পাহাড়ি ঢল ও কাদার স্তূপে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গ ও যন্ত্রপাতি ভরাট হয়ে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত এক বিশাল ধাক্কার মুখে পড়েছে, যা স্বাভাবিক করতে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, চিতওয়ানের অস্থায়ী শনাক্তকরণ কেন্দ্রে প্রতিদিন শত শত মানুষ তাদের নিখোঁজ প্রিয়জনদের সন্ধানে ভিড় জমাচ্ছেন এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি বা ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের আশায় উৎকণ্ঠার সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সকল নিখোঁজ ব্যক্তির চূড়ান্ত সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নেপালের ভয়াবহ বন্যার চার সপ্তাহ পরও নিখোঁজ ছয় হাজার মানুষ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৮:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিধ্বংসী এই বন্যার চার সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও হিমালয়ের দেশ নেপালে দুর্যোগের ক্ষত এখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। দুর্গত বিভিন্ন এলাকার ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, প্রলয়ংকরী এই বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১ হাজার ৪৫১ জনে দাঁড়িয়েছে, পাশাপাশি এখনও প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে এই মারাত্মক বন্যার সূত্রপাত ঘটেছিল। অল্প সময়ের মধ্যে ভোতেকোশি নদী তীব্র বেগে ফুলেফেঁপে ওঠে এবং এর প্রবল জলস্রোতে অসংখ্য বসতবাড়ি, সড়ক, সেতু, যানবাহনসহ আস্ত জনপদ ভেসে যায়। এর ফলে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ জনপদ ও জনবহুল গ্রামগুলো পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

রোববারে প্রকাশিত নেপাল পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে আরও নতুন মরদেহ উদ্ধারের ফলে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ওই অঙ্কে পৌঁছায়। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে চিতওয়ান জেলায়, যেখান থেকে মোট ৩৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া রসুয়া জেলায় ২৩৬টি, পূর্ব নাওয়ালপারাসিতে ২৩২টি, পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে ২২২টি, নুয়াকোট জেলায় ২০৩ জন, গোরখায় ৭৯ জন, ধাদিংয়ে ৭২ জন এবং তানাহু জেলায় ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে আরও দুজন মারা গেছেন। ধ্বংসাবশেষ এবং নদীগর্ভে এখনও বহু মরদেহ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেই কারণে এক মাস পূর্ণ হওয়ার পথে থাকলেও উদ্ধার কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়া হয়নি। রসুয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীর, ধ্বংসস্তূপের গাদা, কর্দমাক্ত স্থান এবং ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে জোরেশোরে তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে রসুয়ার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কাদা ও লোহার জালের নিচে আটকে থাকা ১৭টি মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীদের গ্রাইন্ডার, গ্যাস কাটার এবং রোটরি যন্ত্রের মতো ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়েছে। এর আগে নেপাল সেনাবাহিনীর একজন ফিল্ড কমান্ডার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে সুড়ঙ্গের ভেতরে জমে থাকা বিশাল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করতেই তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যেতে পারে।

উদ্ধারকাজের পাশাপাশি বর্তমানে অন্যতম প্রধান একটি জটিল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা। দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকা এবং স্রোতের টানে ভেসে যাওয়ার কারণে বহু মরদেহ বিকৃত বা পচে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে শরীরের বিচ্ছিন্ন অংশ পাওয়া যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তকরণ দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ অজ্ঞাত মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে সেগুলোকে সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছে। সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে ডিএনএ মিললে বা পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলে এসব মরদেহ আইনানুগভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত মাত্র ১১০টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রাণহানির পাশাপাশি এই মহাদুর্যোগে নেপালের গ্রামীণ ও জনজীবন এবং সার্বিক যোগাযোগ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ এখনও নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে যেতে পারেননি এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছে। ত্রিশুলি করিডরের বিভিন্ন ঝুলন্ত সেতু নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙে যাওয়ায় নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বহু এলাকা একে অপর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যদিও সরকার ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এই সেতুগুলো মেরামতের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে, তবুও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারঘাটের মতো জরুরি সেবাগুলোয় যাতায়াত করা এখনও অত্যন্ত দুরূহ। অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ধসে যাওয়ার ফলে ত্রাণসামগ্রী এবং পুনর্গঠনের উপকরণ সময়মতো পৌঁছাতে চরম বিঘ্ন ঘটছে।

এছাড়া পাহাড়ি ঢল ও কাদার স্তূপে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গ ও যন্ত্রপাতি ভরাট হয়ে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত এক বিশাল ধাক্কার মুখে পড়েছে, যা স্বাভাবিক করতে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, চিতওয়ানের অস্থায়ী শনাক্তকরণ কেন্দ্রে প্রতিদিন শত শত মানুষ তাদের নিখোঁজ প্রিয়জনদের সন্ধানে ভিড় জমাচ্ছেন এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি বা ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের আশায় উৎকণ্ঠার সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সকল নিখোঁজ ব্যক্তির চূড়ান্ত সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।