Dhaka ০৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

তিস্তা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে

২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরকালে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে একটি খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই খসড়া চুক্তি আজও আলোর মুখ দেখেনি। অতীতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর অসম্মতিসহ নানা অজুহাত দেখানো হলেও এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদী পানিবণ্টনের জটিল কৌশল কাজ করছে। অতীতে ১৯৯৬ সালের ফারাক্কা চুক্তির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, নির্দিষ্ট গ্যারান্টি ক্লজ ও নিয়মিত পর্যালোচনার অনুপস্থিতির কারণে সেটি বাংলাদেশের জন্য বড় এক সংকটে রূপ নিয়েছে। ভারত দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট মাত্রায় পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ফারাক্কা এখন উভয় দেশের জন্যই পরিবেশগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ ও নদীতীরবর্তী সাধারণ মানুষও এখন ফারাক্কা বাঁধের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা। উজানে গজলডোবা বাঁধসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির প্রবাহ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এর ফলে নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বরেন্দ্র ও তিস্তা অববাহিকা অঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।

তিস্তা অববাহিকার হাজার হাজার মানুষ জীবিকার জন্য সরাসরি এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদীটি দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনা ও পরবর্তী সময়ে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের পথ এখন অত্যন্ত দুর্গম হয়ে পড়েছে। ফলস্বরূপ, এই নদীর পানিসংকট নিরসনে কূটনৈতিক পর্যায়ে নতুন ও বাস্তবসম্মত বিকল্প ভাবার সময় এসেছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

তিস্তা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরকালে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে একটি খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই খসড়া চুক্তি আজও আলোর মুখ দেখেনি। অতীতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর অসম্মতিসহ নানা অজুহাত দেখানো হলেও এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদী পানিবণ্টনের জটিল কৌশল কাজ করছে। অতীতে ১৯৯৬ সালের ফারাক্কা চুক্তির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, নির্দিষ্ট গ্যারান্টি ক্লজ ও নিয়মিত পর্যালোচনার অনুপস্থিতির কারণে সেটি বাংলাদেশের জন্য বড় এক সংকটে রূপ নিয়েছে। ভারত দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট মাত্রায় পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ফারাক্কা এখন উভয় দেশের জন্যই পরিবেশগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ ও নদীতীরবর্তী সাধারণ মানুষও এখন ফারাক্কা বাঁধের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা। উজানে গজলডোবা বাঁধসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির প্রবাহ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এর ফলে নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বরেন্দ্র ও তিস্তা অববাহিকা অঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।

তিস্তা অববাহিকার হাজার হাজার মানুষ জীবিকার জন্য সরাসরি এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদীটি দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনা ও পরবর্তী সময়ে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের পথ এখন অত্যন্ত দুর্গম হয়ে পড়েছে। ফলস্বরূপ, এই নদীর পানিসংকট নিরসনে কূটনৈতিক পর্যায়ে নতুন ও বাস্তবসম্মত বিকল্প ভাবার সময় এসেছে।