গণিত, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আলোকবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা ও যন্ত্রপ্রকৌশলসহ আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বিকাশে মুসলিম বিশ্বের অসংখ্য মনীষী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের কেউ বীজগণিতের ভিত্তি সুসংহত করেছেন, কেউ মানুষের চোখে দেখার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছেন, আবার কেউ তৈরি করেছেন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ও জটিল যান্ত্রিক ব্যবস্থা। ইতিহাসের পাতায় ছড়িয়ে থাকা এসব অবদান নতুন করে তুলে ধরেছে ‘২০ মুসলিম বিজ্ঞানী, যারা আধুনিক বিজ্ঞানকে চিরতরে বদলে দিয়েছেন’ শিরোনামের একটি তথ্যচিত্র।
৩৫ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে চিকিৎসক, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ, দার্শনিক, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক—এমন ২০ জন মুসলিম মনীষীর কাজ তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত এই তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে, অষ্টম থেকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবন কীভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রেখেছে।
ইসলামের স্বর্ণযুগে, বিশেষ করে অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা, আলোকবিজ্ঞান ও প্রকৌশলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে। এ সময়ের গবেষকেরা প্রাচীন গ্রিক, পারস্য ও ভারতীয় জ্ঞানভান্ডার নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নতুন তত্ত্ব, পদ্ধতি ও যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। তাঁদের কাজ পরবর্তী সময়ে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্ঞানচর্চায় প্রভাব ফেলে।
তথ্যচিত্রে তুলে ধরা ২০ মনীষীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—
ইবনে জুহর: চিকিৎসাবিজ্ঞানে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত এই চিকিৎসক রোগীর ওপর চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগের আগে প্রাণীর ওপর পরীক্ষা চালানোর কথা লিখেছিলেন। শ্বাসনালিতে অস্ত্রোপচার এবং খাবার গিলতে অক্ষম রোগীকে নল দিয়ে পুষ্টি দেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও তার আলোচনা ছিল। তার চিকিৎসাবিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-তাইসির’ পরবর্তী সময়ে লাতিন ও হিব্রু ভাষায় অনূদিত হয়।
আল-ফারাবি: দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, সংগীত ও জ্ঞানবিজ্ঞানের শ্রেণিবিন্যাসে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অ্যারিস্টটলের দর্শন ব্যাখ্যা করার জন্য তিনি ‘দ্বিতীয় শিক্ষক’ উপাধি পান। তার ‘ইহসা আল-উলুম’ গ্রন্থে বিভিন্ন জ্ঞানশাখাকে পৃথকভাবে সাজানোর চেষ্টা দেখা যায়। সংগীতের গাণিতিক ভিত্তি নিয়েও তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।
নাসির আল-দিন আল-তুসি: ত্রয়োদশ শতাব্দীর এই গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ ইরানের মারাগা মানমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জ্যোতির্বিদ্যা ও ত্রিকোণমিতিতে তার অবদান উল্লেখযোগ্য।


























