বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যজোট লংমার্চের নাম দিয়ে মূলত ‘গাড়িমার্চ’ পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা সমাপনান্তে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দানকালে তিনি এই কথা বলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক কর্মসূচির ইতিহাসে লংমার্চ সাধারণত পদব্রজে বা পায়ে হেঁটে সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও উক্ত জোটটি মূলত যানবাহনের ওপর ভর করে গাড়িমার্চ করছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমেই তারা জনগণকে বার্তা পৌঁছে দেবে এবং সাধারণ মানুষ তা শ্রবণ করবে। তিনি আরও ব্যক্ত করেন যে, গণতান্ত্রিক নিয়মাবলীতে যাদের রাজনীতি করার আইনি অধিকার রয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করুক—এ নিয়ে সরকারের কোনো নেতিবাচক আপত্তি বা মন্তব্য নেই।
এর আগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের সাথে ওই অঞ্চলের মাদক প্রতিরোধ, চোরাচালান রোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ ও মানসিক বিষাদজনিত আত্মহত্যা প্রবণতা কমানোর নানা কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়। এ সময় জেলায় অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ও কঠোর ভূমিকা পালনের দিকনির্দেশনা দেন মন্ত্রী। নিতাই রায় চৌধুরী আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, সমগ্র দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে ইতিবাচক ধারায় ফিরছে এবং পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় চুয়াডাঙ্গার পরিস্থিতিও খুব দ্রুত পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
উক্ত সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামানসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী নজরুল উৎসবের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। উল্লেখ্য, একই দিন সকালে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে হানিফ ফ্লাইওভার ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক হয়ে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা ও কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে ১১-দলীয় ঐক্যজোটের উক্ত পদযাত্রার মূল গাড়িবহরটি যাত্রা শুরু করেছিল।






















