দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আলোচিত সাবেক উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের পথ সুগম হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাঁর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দীন দোলন গণমাধ্যমকে জানান যে, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত দুদকের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দেওয়ায় তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহালসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে ৩০ দিনের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়াসহ পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও সংস্থাটি পরবর্তীতে তা আর পরিচালনা না করায় দীর্ঘ সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর তাঁর চাকরিতে ফেরার আইনি বাধা দূর হলো।
দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন শরীফ উদ্দিন সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, ভূমি অধিগ্রহণ অনিয়ম, রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং ইয়াবা চোরাচালানসহ প্রায় অর্ধশত মামলা এবং ২০টির বেশি অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন। তাঁর এসব অনুসন্ধানে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তাদের নাম উঠে আসায় ২০২১ সালের ১৬ জুন তাঁকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয় এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদক কর্মচারী বিধিমালার ৫৪(২) বিধি প্রয়োগ করে তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। চাকরিচ্যুতির আদেশ ও উক্ত বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি ২০২২ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাঁর চাকরিচ্যুতিকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করেন। দুদক ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার বা পরিচালনা না করায় হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ই চূড়ান্তভাবে বহাল থাকে। এর ফলে সাড়ে চার বছর আগে বরখাস্ত হওয়া এই সাহসী কর্মকর্তা আবারও তাঁর পেশাগত জীবনে ফিরে যাওয়ার বৈধ অধিকার ফিরে পেলেন।






















