কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে উদ্গত গ্যাসে লাগা আগুন টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে। আগুনের তীব্রতা এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থলের চারপাশে দুই শ মিটার এলাকা জুড়ে কাঁটাতারের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। অন্যদিকে, আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও গ্যাসের উপাদান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোটখাল সংলগ্ন গ্যাস নির্গমনের উৎসস্থলের আশপাশে এই বেষ্টনী গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। এদিকে আগুনের শিখা কাছাকাছি বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিরাপদ হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গত মঙ্গলবার সকালে ইনানী ছোট খাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় একটি বসতবাড়িতে গভীর নলকূপ খননের সময় হঠাৎ মাটির নিচ থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং মুহূর্তেই তাতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালালেও ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস নির্গমনের কারণে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাপেক্সের একটি বিশেষায়িত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে। দলটির প্রধান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নলকূপ খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল, যেখান থেকে ভূগর্ভস্থ ফাটল দিয়ে গ্যাস উপরে উঠে আসছে। তবে পরীক্ষাগারে বিস্তারিত বিশ্লেষণ ছাড়া এর সঠিক প্রকৃতি ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া জোর করে গ্যাসের চাপ বন্ধের চেষ্টা করলে অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে তা বের হয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।






















