Dhaka ০৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থান প্রশংসার দাবিদার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

সম্প্রতি দেশের গণমাধ্যম ও জনপরিসরে ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ইস্যুটি কেন্দ্র করে হঠাৎ করে এক অস্বস্তিকর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের অত্যন্ত সময়োচিত, স্পষ্ট ও দায়িত্বশীল হস্তক্ষেপে সেই অনভিপ্রেত বিতর্ক শুরুতেই সাফল্যের সাথে থমকে গেছে।

আইনগত দিক থেকে বিচারবিশ্লেষণে ‘ক্রসফায়ার’ বলতে মূলত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকেই বোঝায়, যা দেশের প্রচলিত সংবিধান, সুনির্দিষ্ট আইনের শাসন এবং সার্বিক মানবাধিকারের চরম পরিপন্থী একটি ঘৃণ্য অপরাধ।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, দীর্ঘ দীর্ঘ বছর ধরে এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো বর্বরোচিত সংস্কৃতি আমাদের দেশে এক রকম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল। অতীতের বিভিন্ন সরকার নানা সময়ে এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৌন সমর্থন জুগিয়েছে। দেশের কোনো কোনো মহল অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে এটাকে খুব সহজ ও চটজলদি সমাধান হিসেবে বিবেচনা করার ভুল চেষ্টা করেছে। অথচ একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে এ জাতীয় বেআইনি ঘটনা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আমাদের পবিত্র সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমানভাবে আইনের আশ্রয়লাভের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করেছে। যথাযথ উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে যেকোনো নাগরিক নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। অথচ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার সরাসরি হরণ করে এবং আদালতের বিচারকার্য সম্পন্ন হওয়ার আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সোজাসাপ্টা সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে—যা কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ নয়। কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ামাত্রই চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হয়ে যান না। অপরাধের অভিযোগের গুরুত্ব যতই বেশি হোক না কেন, তার সত্যতা ও সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রতিষ্ঠার মূল দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও ধীরগতির সুযোগ নিয়ে অতীতে অনেকে এই মানবতাবিরোধী অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু এর মাধ্যমে মূলত দেশের প্রতিষ্ঠিত আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়। সন্দেহাতীতভাবে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার পেশাগত দায়িত্ব। বিচারবহির্ভূত হত্যার পথ বেছে নিয়ে যদি সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হয়, তবে অপরাধের মূল কারণ ও প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটনের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি নিজেই বিচারক সেজে নির্ধারণ করতে শুরু করে কে বেঁচে থাকবে আর কে মৃত্যুবরণ করবে, তবে সেই বলপ্রয়োগ আর আইনের শাসনের অনুগত থাকে না। রাষ্ট্র তখন একটি বৈধ আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান না হয়ে কেবল অস্ত্রের জোরে যত্রতত্র সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া একটি ভীতিপ্রদ শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।

বিচারবহির্ভূত এই হত্যার সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সাধারণ মানুষ যখন ভেতরে ভেতরে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, প্রচলিত আইন কেবল ক্ষমতাবানদের রক্ষা করে এবং বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র উপায় হলো গায়ের জোর বা বলপ্রয়োগ, তখন রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি সাধারণের শ্রদ্ধাবোধ দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে সহিংসতার সংস্কৃতি সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে, ব্যক্তিগত প্রতিশোধস্পৃহা, অনানুষ্ঠানিক বিচার কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচালিত অনৈতিক সালিশের মতো ব্যবস্থাগুলো নতুন করে সামাজিক বৈধতা পেতে শুরু করে।

অতীতে ক্রসফায়ারের অপব্যবহারের মাধ্যমে কেবল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বৈধতাই দেওয়া হয়নি, বরং এটিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবেও যত্রতত্র ব্যবহার করা হয়েছে। কেবল চিহ্নিত বা প্রমাণিত অপরাধীরাই নয়, বরং বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভিন্নতাবলম্বীরাও এই ক্রসফায়ারের সরাসরি নিশানায় পরিণত হয়েছেন। এর ফলে দেশজুড়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছিল।

বিরোধী দলে থাকালীন সময়েই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্পষ্টভাবে অঙ্গিকার করেছিল যে, তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশে কোনো অবস্থাতেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না এবং ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত্যা চিরতরে বন্ধ করা হবে।

পরবর্তীতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিচারবহির্ভূত এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবসময় অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান বজায় রেখে চলেছে। বিশেষ করে বিগত আট মাসের রাষ্ট্রীয় শাসনকালে দেশে একটিও ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি, যা অতীতে অকল্পনীয় ছিল। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ও স্বস্তিদায়ক রাখতে বর্তমান সরকার সবসময় অনমনীয় সহিষ্ণুতা এবং ধৈর্য ধারণের নীতি অনুসরণ করে চলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটিত মব জাস্টিস কিংবা চাঁদাবাজির মতো নানামুখী অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও সরকার সবসময় আইনের সঠিক ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করেছে।

কিন্তু ঠিক এমন একটি স্থিতিশীল সময়ে হুট করেই পুলিশ প্রধানের একটি আকস্মিক মন্তব্য সারা দেশে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক তোলপাড় সৃষ্টি করে। গত সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারে আয়োজিত একটি ব্যাংকিং সেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির মন্তব্য করেন যে, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ আবারও ‘ক্রসফায়ার’ করবে।

আইজিপির এই বক্তব্যের পরপরই দেশজুড়ে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। মানবাধিকার সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন নাগরিক অধিকার ফোরাম তাঁর এই বক্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে এক ধরনের বিপজ্জনক বার্তা ও উসকানি হিসেবে অভিহিত করে। তারা অবিলম্বে উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার, সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা এবং আইজিপির প্রশাসনিক জবাবদিহি দাবি করেন। পাশাপাশি কয়েকটি রাজনৈতিক দলও এর তীব্র নিন্দা জানায়।

তীব্র সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা সংবলিত বিবৃতি পাঠানো হয়। সেখানে দাবি করা হয় যে, আইজিপি মূলত মাদক ব্যবসায়ী, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টিকারী দাগী অপরাধীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি রূপক অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন মর্মে জানানো হয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আরও জানানো হয় যে, ২০২৬ সালের প্রথম দশ মাসেই কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধীদের অতর্কিত হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং প্রায় ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার মৌলিক অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত কোনো শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইজিপি ওই মন্তব্য করেননি।

তবে এর পেছনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয় যে, এর পেছনে সরকারের কোনো অন্তর্নিহিত ইন্ধন রয়েছে কি না। কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকার হয়তো পুনরায় ক্রসফায়ার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাইছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই কি পুলিশপ্রধান এই ঘৃণিত পথ বেছে নিতে চাইছেন? বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার এই অপচেষ্টা মূলত আইনসম্মতভাবে অপরাধ দমনে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতারই স্পষ্ট স্বীকৃতি।

তবে চলমান এই জলঘোলা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে দেয়নি বর্তমান সরকার। অতি দ্রুততার সাথে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়।

‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’—পুলিশপ্রধানের এমন বিতর্কিত বক্তব্য বর্তমান সরকারের জন্য চরম বিব্রতকর বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, যে দলটি দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে একটানা রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম পরিচালনা করেছে, সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে এমন শব্দ মানায় না। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই আজ দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ একটি মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, যেখানে এমন মন্তব্যের কোনো অবকাশ নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অপরাধ দমনের জন্য দেশে পর্যাপ্ত প্রচলিত আইন রয়েছে এবং সেই আইন প্রয়োগ করেই সকল সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব।

এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে পরবর্তীতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আইজিপির ওই মন্তব্যকে সরাসরি নাকচ করে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, সরকার কখনই ক্রসফায়ার সমর্থন করে না; বরং সরকারের অবস্থান হলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইজিপি হয়তো অসতর্কতাবশত এমন মন্তব্য করে ফেলেছেন, যা কোনোভাবেই সমীচীন বা সঠিক হয়নি। সরকার কখনোই কোনো পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু বা বিচারবহির্ভূত হত্যা বরদাশত করবে না।

পরিশেষে এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হয়তো পুরোপুরি স্বাভাবিক জায়গায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় নিচ্ছে এবং বিগত সরকারের আমল থেকে চলে আসা মব সন্ত্রাস কিংবা চাঁদাবাজির মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো সরকার এখনও সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের আধুনিক ও সহজ উপায় হিসেবে সরকার কস্মিনকালেও বিচারবহির্ভূত হত্যা বা সস্তা জনপ্রিয়তার শর্টকাট পথ বেছে নেয়নি। বরং সব ধরনের ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত সহিংসতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত দৃঢ় ও আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আবারও প্রমাণ করেছে যে, এই সরকার যা বলে, তা আক্ষরিক অর্থেই বাস্তবায়ন করে দেখায়। এই সুস্থ ও মানবিক ধারা বজায় রাখার জন্য সচেতন দেশবাসীর পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানোই যায়।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থান প্রশংসার দাবিদার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সম্প্রতি দেশের গণমাধ্যম ও জনপরিসরে ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ইস্যুটি কেন্দ্র করে হঠাৎ করে এক অস্বস্তিকর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের অত্যন্ত সময়োচিত, স্পষ্ট ও দায়িত্বশীল হস্তক্ষেপে সেই অনভিপ্রেত বিতর্ক শুরুতেই সাফল্যের সাথে থমকে গেছে।

আইনগত দিক থেকে বিচারবিশ্লেষণে ‘ক্রসফায়ার’ বলতে মূলত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকেই বোঝায়, যা দেশের প্রচলিত সংবিধান, সুনির্দিষ্ট আইনের শাসন এবং সার্বিক মানবাধিকারের চরম পরিপন্থী একটি ঘৃণ্য অপরাধ।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, দীর্ঘ দীর্ঘ বছর ধরে এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো বর্বরোচিত সংস্কৃতি আমাদের দেশে এক রকম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল। অতীতের বিভিন্ন সরকার নানা সময়ে এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৌন সমর্থন জুগিয়েছে। দেশের কোনো কোনো মহল অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে এটাকে খুব সহজ ও চটজলদি সমাধান হিসেবে বিবেচনা করার ভুল চেষ্টা করেছে। অথচ একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে এ জাতীয় বেআইনি ঘটনা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আমাদের পবিত্র সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমানভাবে আইনের আশ্রয়লাভের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করেছে। যথাযথ উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে যেকোনো নাগরিক নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। অথচ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার সরাসরি হরণ করে এবং আদালতের বিচারকার্য সম্পন্ন হওয়ার আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সোজাসাপ্টা সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে—যা কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ নয়। কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ামাত্রই চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হয়ে যান না। অপরাধের অভিযোগের গুরুত্ব যতই বেশি হোক না কেন, তার সত্যতা ও সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রতিষ্ঠার মূল দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও ধীরগতির সুযোগ নিয়ে অতীতে অনেকে এই মানবতাবিরোধী অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু এর মাধ্যমে মূলত দেশের প্রতিষ্ঠিত আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়। সন্দেহাতীতভাবে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার পেশাগত দায়িত্ব। বিচারবহির্ভূত হত্যার পথ বেছে নিয়ে যদি সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হয়, তবে অপরাধের মূল কারণ ও প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটনের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি নিজেই বিচারক সেজে নির্ধারণ করতে শুরু করে কে বেঁচে থাকবে আর কে মৃত্যুবরণ করবে, তবে সেই বলপ্রয়োগ আর আইনের শাসনের অনুগত থাকে না। রাষ্ট্র তখন একটি বৈধ আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান না হয়ে কেবল অস্ত্রের জোরে যত্রতত্র সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া একটি ভীতিপ্রদ শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।

বিচারবহির্ভূত এই হত্যার সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। সাধারণ মানুষ যখন ভেতরে ভেতরে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, প্রচলিত আইন কেবল ক্ষমতাবানদের রক্ষা করে এবং বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র উপায় হলো গায়ের জোর বা বলপ্রয়োগ, তখন রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি সাধারণের শ্রদ্ধাবোধ দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে সহিংসতার সংস্কৃতি সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে, ব্যক্তিগত প্রতিশোধস্পৃহা, অনানুষ্ঠানিক বিচার কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচালিত অনৈতিক সালিশের মতো ব্যবস্থাগুলো নতুন করে সামাজিক বৈধতা পেতে শুরু করে।

অতীতে ক্রসফায়ারের অপব্যবহারের মাধ্যমে কেবল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বৈধতাই দেওয়া হয়নি, বরং এটিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবেও যত্রতত্র ব্যবহার করা হয়েছে। কেবল চিহ্নিত বা প্রমাণিত অপরাধীরাই নয়, বরং বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভিন্নতাবলম্বীরাও এই ক্রসফায়ারের সরাসরি নিশানায় পরিণত হয়েছেন। এর ফলে দেশজুড়ে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছিল।

বিরোধী দলে থাকালীন সময়েই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্পষ্টভাবে অঙ্গিকার করেছিল যে, তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশে কোনো অবস্থাতেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না এবং ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত্যা চিরতরে বন্ধ করা হবে।

পরবর্তীতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিচারবহির্ভূত এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবসময় অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান বজায় রেখে চলেছে। বিশেষ করে বিগত আট মাসের রাষ্ট্রীয় শাসনকালে দেশে একটিও ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি, যা অতীতে অকল্পনীয় ছিল। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ও স্বস্তিদায়ক রাখতে বর্তমান সরকার সবসময় অনমনীয় সহিষ্ণুতা এবং ধৈর্য ধারণের নীতি অনুসরণ করে চলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটিত মব জাস্টিস কিংবা চাঁদাবাজির মতো নানামুখী অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতেও সরকার সবসময় আইনের সঠিক ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করেছে।

কিন্তু ঠিক এমন একটি স্থিতিশীল সময়ে হুট করেই পুলিশ প্রধানের একটি আকস্মিক মন্তব্য সারা দেশে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক তোলপাড় সৃষ্টি করে। গত সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারে আয়োজিত একটি ব্যাংকিং সেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির মন্তব্য করেন যে, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ আবারও ‘ক্রসফায়ার’ করবে।

আইজিপির এই বক্তব্যের পরপরই দেশজুড়ে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। মানবাধিকার সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন নাগরিক অধিকার ফোরাম তাঁর এই বক্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে এক ধরনের বিপজ্জনক বার্তা ও উসকানি হিসেবে অভিহিত করে। তারা অবিলম্বে উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার, সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা এবং আইজিপির প্রশাসনিক জবাবদিহি দাবি করেন। পাশাপাশি কয়েকটি রাজনৈতিক দলও এর তীব্র নিন্দা জানায়।

তীব্র সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা সংবলিত বিবৃতি পাঠানো হয়। সেখানে দাবি করা হয় যে, আইজিপি মূলত মাদক ব্যবসায়ী, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টিকারী দাগী অপরাধীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাই বোঝাতে চেয়েছেন। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি রূপক অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন মর্মে জানানো হয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আরও জানানো হয় যে, ২০২৬ সালের প্রথম দশ মাসেই কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধীদের অতর্কিত হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং প্রায় ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার মৌলিক অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত কোনো শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইজিপি ওই মন্তব্য করেননি।

তবে এর পেছনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয় যে, এর পেছনে সরকারের কোনো অন্তর্নিহিত ইন্ধন রয়েছে কি না। কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেন যে বর্তমান সরকার হয়তো পুনরায় ক্রসফায়ার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাইছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই কি পুলিশপ্রধান এই ঘৃণিত পথ বেছে নিতে চাইছেন? বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার এই অপচেষ্টা মূলত আইনসম্মতভাবে অপরাধ দমনে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতারই স্পষ্ট স্বীকৃতি।

তবে চলমান এই জলঘোলা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে দেয়নি বর্তমান সরকার। অতি দ্রুততার সাথে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়।

‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’—পুলিশপ্রধানের এমন বিতর্কিত বক্তব্য বর্তমান সরকারের জন্য চরম বিব্রতকর বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, যে দলটি দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে একটানা রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম পরিচালনা করেছে, সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে এমন শব্দ মানায় না। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই আজ দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ একটি মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, যেখানে এমন মন্তব্যের কোনো অবকাশ নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অপরাধ দমনের জন্য দেশে পর্যাপ্ত প্রচলিত আইন রয়েছে এবং সেই আইন প্রয়োগ করেই সকল সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব।

এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে পরবর্তীতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আইজিপির ওই মন্তব্যকে সরাসরি নাকচ করে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, সরকার কখনই ক্রসফায়ার সমর্থন করে না; বরং সরকারের অবস্থান হলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইজিপি হয়তো অসতর্কতাবশত এমন মন্তব্য করে ফেলেছেন, যা কোনোভাবেই সমীচীন বা সঠিক হয়নি। সরকার কখনোই কোনো পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু বা বিচারবহির্ভূত হত্যা বরদাশত করবে না।

পরিশেষে এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হয়তো পুরোপুরি স্বাভাবিক জায়গায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় নিচ্ছে এবং বিগত সরকারের আমল থেকে চলে আসা মব সন্ত্রাস কিংবা চাঁদাবাজির মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো সরকার এখনও সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের আধুনিক ও সহজ উপায় হিসেবে সরকার কস্মিনকালেও বিচারবহির্ভূত হত্যা বা সস্তা জনপ্রিয়তার শর্টকাট পথ বেছে নেয়নি। বরং সব ধরনের ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত সহিংসতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত দৃঢ় ও আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আবারও প্রমাণ করেছে যে, এই সরকার যা বলে, তা আক্ষরিক অর্থেই বাস্তবায়ন করে দেখায়। এই সুস্থ ও মানবিক ধারা বজায় রাখার জন্য সচেতন দেশবাসীর পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানোই যায়।