Dhaka ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে পাওয়ার গ্রিডের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৫২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বিস্তীর্ণ এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিড পিএলসি।

ভবিষ্যতে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে এ ধরনের জটিলতা ও ঘটনার পুনরাবৃত্তি চিরতরে রোধ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী পাঁচ কর্মদিবসের সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য কমিটিকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

পাওয়ার গ্রিড পিএলসির সঞ্চালন-২ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই তদন্ত কমিটি বিপর্যয়ের মূল প্রাতিষ্ঠানিক কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপের সুপারিশ তৈরি করবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে পূর্বাঞ্চলীয় জাতীয় গ্রিডে হঠাৎ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়সহ রাজধানী ঢাকার পূর্বাংশের একটি বড় এলাকা এবং পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল একযোগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম অন্ধকারে তলিয়ে যায়।

বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জনভোগান্তির জন্য বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বড় ধরনের কোনো সম্ভাব্য জাতীয় বিপর্যয় এড়াতে বা ক্ষতি কমাতে সঞ্চালন ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা সুবিধার কারণে সংশ্লিষ্ট পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র তৎক্ষণাৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রায় দুই ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো একে একে পুনরায় তাদের উৎপাদন শুরু করলে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে এবং বাসাবাড়িসহ সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরতে শুরু করে।

পাওয়ার গ্রিড পিএলসি সূত্রে জানানো হয়েছে, জাতীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁদের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের জটিল কাজ পরিচালনা করেন। জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সরাসরি ও সার্বিক প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণে গ্রিড দ্রুত পুনরুদ্ধারের এই জটিল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে এহেন সাময়িক বিভ্রাট ঘটলেও দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য সমগ্র অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি এবং সেসব অঞ্চলে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন ছিল।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে এ জাতীয় বড় ধরনের বিপর্যয় ও দেশজুড়ে দীর্ঘায়িত বিদ্যুৎহীনতার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে পাওয়ার গ্রিডের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:৫২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বিস্তীর্ণ এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিড পিএলসি।

ভবিষ্যতে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে এ ধরনের জটিলতা ও ঘটনার পুনরাবৃত্তি চিরতরে রোধ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী পাঁচ কর্মদিবসের সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য কমিটিকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

পাওয়ার গ্রিড পিএলসির সঞ্চালন-২ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই তদন্ত কমিটি বিপর্যয়ের মূল প্রাতিষ্ঠানিক কারণ শনাক্ত করার পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপের সুপারিশ তৈরি করবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে পূর্বাঞ্চলীয় জাতীয় গ্রিডে হঠাৎ করে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়সহ রাজধানী ঢাকার পূর্বাংশের একটি বড় এলাকা এবং পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল একযোগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম অন্ধকারে তলিয়ে যায়।

বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জনভোগান্তির জন্য বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বড় ধরনের কোনো সম্ভাব্য জাতীয় বিপর্যয় এড়াতে বা ক্ষতি কমাতে সঞ্চালন ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা সুবিধার কারণে সংশ্লিষ্ট পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র তৎক্ষণাৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রায় দুই ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো একে একে পুনরায় তাদের উৎপাদন শুরু করলে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে এবং বাসাবাড়িসহ সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরতে শুরু করে।

পাওয়ার গ্রিড পিএলসি সূত্রে জানানো হয়েছে, জাতীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁদের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের জটিল কাজ পরিচালনা করেন। জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সরাসরি ও সার্বিক প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণে গ্রিড দ্রুত পুনরুদ্ধারের এই জটিল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে এহেন সাময়িক বিভ্রাট ঘটলেও দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য সমগ্র অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি এবং সেসব অঞ্চলে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন ছিল।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে এ জাতীয় বড় ধরনের বিপর্যয় ও দেশজুড়ে দীর্ঘায়িত বিদ্যুৎহীনতার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল।