Dhaka ০৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

জাপানের প্রথমা নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় ও সার্বভৌম স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশটির সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণে বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, ব্যাপক বৈদেশীিক বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বহুগুণ জোরদারের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম মৌলিক শিল্প খাত ও কৌশলগত বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যৌথভাবে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় রাতে রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতি ও বিকাশমান বিভিন্ন শিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগ বহুগুণ বাড়ানোর ব্যাপারে শীর্ষ পর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে দেশে বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম এমন উৎপাদনমুখী শিল্প খাতের প্রকল্পগুলোকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

তিনি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এক উপাত্ত তুলে ধরে প্রকাশ করেন যে, জাপানের বেসরকারি শিল্প খাত আগামী পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট মেয়াদে বাংলাদেশে প্রায় ৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় সাড়ে ছয়শো কোটি ডলার) নতুন বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জাপানি প্রতিষ্ঠানের এই বিপুল বৈদেশিক বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ বেকার নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও তথ্য প্রদান করেন যে, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বহুপ্রতীক্ষিত ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ও জোরদার করার বিষয়েও বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সার্বিকভাবে মসৃণ, নিরাপদ ও টেকসই করে তুলতে বন্ধুপ্রতীম জাপানের সার্বিক উন্নয়ন সহযোগিতা প্রার্থনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন, বিশ্বব্যাপী বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নানামুখী চ্যালেঞ্জ এবং বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কঠিন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার এলডিসি উত্তরণের সার্বিক প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময়সীমা বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুক্তিযুক্ত এই সময় বৃদ্ধির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে।

হুমায়ুন কবীর আরও জানান, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার গতি ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে একটি স্থায়ী ও গতিশীল যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্যিক খাতসমূহ চিহ্নিতকরণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং নিয়মিত কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পদ্ধতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা ও টোকিওর বেসরকারি ব্যবসায়িক খাতের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন দুই দেশের সরকারপ্রধান।

তিনি আরও ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শক্তি ও জ্বালানি খাত, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পনগরী বা হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা এবং দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে উড়াল সড়ক বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ নানাবিধ অবকাঠামো উন্নয়নমূলক মেগা প্রকল্পে জাপানি সরকার ও বিনিয়োগকারীদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে জাপানের কাছ থেকে সরাসরি উন্নয়ন সহযোগিতা (ওডিএ) হিসেবে ৫০০ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের নতুন আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান জাপান সফরকে নতুন বিনিয়োগের দুয়ার উন্মোচন এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নতুন ও বিকাশমান গণতান্ত্রিক পথচলার শুভ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে গেছে। আর প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সেই মানসিক আগ্রহকে মাঠপর্যায়ের বাস্তব বিনিয়োগে রূপান্তর করা।”

সফরকালীন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিদর্শনকালে জাপানের আধুনিক জ্বালানি অবকাঠামো এবং আধুনিক লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা সরাসরি দেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সাগরে আধুনিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সর্বাধুনিক লজিস্টিক ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় জাপানের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশে রূপায়ন করার ক্ষেত্রে সরকারের গভীর আগ্রহ রয়েছে।

জাপানে উচ্চশিক্ষার জন্য অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা অর্জন এবং পরবর্তীতে সরাসরি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

তিনি আগামী দিনের আন্তর্জাতিক কৌশল তুলে ধরে বলেন, পরবর্তী বছরে বহুপক্ষীয় বৈশ্বিক কূটনৈতিক কাঠামোর বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও মানবিক ইস্যুকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ। সে ক্ষেত্রে বন্ধুপ্রতীম দেশ জাপানের সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করছে ঢাকা।

সংবাদ সম্মেলনের সমাপনীতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুংকার দিয়ে বলেন, সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহ্যবাহী জাপান সফর অত্যন্ত সফল ও বহুমাত্রিক দিক থেকে ফলপ্রসূ হয়েছে। দুই পরাশক্তি ও বন্ধুরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে গঠনমূলক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী দিনে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গতিশীল শিল্পায়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অভূতপূর্ব এক নতুন সম্ভাবনার জন্ম দেবে।

টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের প্রথমা নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় ও সার্বভৌম স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশটির সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণে বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, ব্যাপক বৈদেশীিক বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বহুগুণ জোরদারের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম মৌলিক শিল্প খাত ও কৌশলগত বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যৌথভাবে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় রাতে রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতি ও বিকাশমান বিভিন্ন শিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগ বহুগুণ বাড়ানোর ব্যাপারে শীর্ষ পর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে দেশে বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম এমন উৎপাদনমুখী শিল্প খাতের প্রকল্পগুলোকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

তিনি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এক উপাত্ত তুলে ধরে প্রকাশ করেন যে, জাপানের বেসরকারি শিল্প খাত আগামী পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট মেয়াদে বাংলাদেশে প্রায় ৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় সাড়ে ছয়শো কোটি ডলার) নতুন বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জাপানি প্রতিষ্ঠানের এই বিপুল বৈদেশিক বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ বেকার নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও তথ্য প্রদান করেন যে, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বহুপ্রতীক্ষিত ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ও জোরদার করার বিষয়েও বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সার্বিকভাবে মসৃণ, নিরাপদ ও টেকসই করে তুলতে বন্ধুপ্রতীম জাপানের সার্বিক উন্নয়ন সহযোগিতা প্রার্থনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন, বিশ্বব্যাপী বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নানামুখী চ্যালেঞ্জ এবং বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কঠিন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার এলডিসি উত্তরণের সার্বিক প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময়সীমা বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুক্তিযুক্ত এই সময় বৃদ্ধির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে।

হুমায়ুন কবীর আরও জানান, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার গতি ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে একটি স্থায়ী ও গতিশীল যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্যিক খাতসমূহ চিহ্নিতকরণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং নিয়মিত কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পদ্ধতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা ও টোকিওর বেসরকারি ব্যবসায়িক খাতের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন দুই দেশের সরকারপ্রধান।

তিনি আরও ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শক্তি ও জ্বালানি খাত, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পনগরী বা হাইটেক পার্ক গড়ে তোলা এবং দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে উড়াল সড়ক বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ নানাবিধ অবকাঠামো উন্নয়নমূলক মেগা প্রকল্পে জাপানি সরকার ও বিনিয়োগকারীদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে জাপানের কাছ থেকে সরাসরি উন্নয়ন সহযোগিতা (ওডিএ) হিসেবে ৫০০ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের নতুন আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান জাপান সফরকে নতুন বিনিয়োগের দুয়ার উন্মোচন এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নতুন ও বিকাশমান গণতান্ত্রিক পথচলার শুভ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে গেছে। আর প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সেই মানসিক আগ্রহকে মাঠপর্যায়ের বাস্তব বিনিয়োগে রূপান্তর করা।”

সফরকালীন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিদর্শনকালে জাপানের আধুনিক জ্বালানি অবকাঠামো এবং আধুনিক লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা সরাসরি দেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সাগরে আধুনিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সর্বাধুনিক লজিস্টিক ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় জাপানের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশে রূপায়ন করার ক্ষেত্রে সরকারের গভীর আগ্রহ রয়েছে।

জাপানে উচ্চশিক্ষার জন্য অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা অর্জন এবং পরবর্তীতে সরাসরি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জাপানি ভাষা শিক্ষা প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

তিনি আগামী দিনের আন্তর্জাতিক কৌশল তুলে ধরে বলেন, পরবর্তী বছরে বহুপক্ষীয় বৈশ্বিক কূটনৈতিক কাঠামোর বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও মানবিক ইস্যুকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ। সে ক্ষেত্রে বন্ধুপ্রতীম দেশ জাপানের সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করছে ঢাকা।

সংবাদ সম্মেলনের সমাপনীতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুংকার দিয়ে বলেন, সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহ্যবাহী জাপান সফর অত্যন্ত সফল ও বহুমাত্রিক দিক থেকে ফলপ্রসূ হয়েছে। দুই পরাশক্তি ও বন্ধুরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে গঠনমূলক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী দিনে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গতিশীল শিল্পায়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অভূতপূর্ব এক নতুন সম্ভাবনার জন্ম দেবে।

টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।