রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই ফসলের ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত ও দমনে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব আলোক ফাঁদ পদ্ধতি। এই কৌশলের মাধ্যমে কৃষকেরা সহজেই জমিতে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি বুঝতে পারছেন, যা অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের খরচ ও পরিবেশের ক্ষতি কড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কৃষক পর্যায়ে এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য সন্ধ্যার পর ফসলের মাঠে একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে তার নিচে সাবান বা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিভর্তি পাত্র রাখা হয়। আলোর আকর্ষণে ক্ষতিকর পোকামাকড় এসে ওই পানিতে পড়ে মারা যায়। ফসলের যে অংশে পোকার আক্রমণ বেশি থাকে, সেখানে এই ফাঁদ স্থাপন করা হয়।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব কম খরচে পোকার ধরন ও সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, যা সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক। এর ফলে ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মাটি ও পরিবেশ রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।
পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শর্মিলা শারমিন জানান, আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পোকাগুলো ফাঁদে আটকা পড়ে। নিয়মিত এটি পর্যবেক্ষণ করলে শুরুতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, উপজেলার প্রতিটি ব্লকে সপ্তাহে এক দিন আলোক ফাঁদ স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।


























