দেশে এখনো ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিতে ভুগছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বিশ্ব আয়োডিন দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনে ‘বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনে আয়োডিনের গুরুত্ব’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যা সমাধানে আয়োডিনযুক্ত লবণের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে লবণ উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদনে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নে বিসিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বিসিককে লবণ উৎপাদনকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আয়োডিনের ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, আয়োডিনের অভাব একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এই সমস্যা নিরসন ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ২১ অক্টোবর বিশ্ব আয়োডিন দিবস পালিত হয়। এরই অংশ হিসেবে বিগত কয়েক বছরের মতো মঙ্গলবার দিবসটি পালন করে বিসিক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। এছাড়া ড. রুদাবা খন্দকার, গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা, এনআই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবিরসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ অনুষ্ঠানে বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনে আয়োডিনের গুরুত্ব সম্পর্কে তার প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, লবণ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ জনবল বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণের ওপর বিসিক গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে আয়োডিনযুক্ত লবণের বাজারজাতকরণে বিসিক সব সময় অঙ্গীকারবদ্ধ।


























