Dhaka ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্যে তীব্র নিন্দা জানালো আসক: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত বলে উদ্বেগ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’—পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) এমন বক্তব্যে তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটি বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে আসীন একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়; বরং তা আইনের শাসন, সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির সুস্পষ্ট পরিপন্থী। কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করার কোনো অধিকার রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেই।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায় আসক।

বিজ্ঞপ্তিতে আসক উল্লেখ করে, পুলিশের দায়িত্ব হলো প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং তাদের যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা। আইন প্রয়োগের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনার কথা বলা কখনোই দায়িত্বশীল আইন প্রয়োগের দৃষ্টান্ত হতে পারে না। এ ধরনের বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারত্ব, জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।

সংগঠনটি স্মরণ করিয়ে দেয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তি (আইসিসিপিআর) এবং নির্যাতনবিরোধী সনদের (ক্যাট) আলোকে নাগরিকদের জীবনের অধিকার রক্ষা, হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা।

আসক আরও মনে করে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে রাষ্ট্রের ইতিবাচক অঙ্গীকার ও ঘোষিত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এ ধরনের বক্তব্যের স্পষ্ট বৈপরীত্য ও অসংগতি রয়েছে। আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পরিবর্তে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পুনরায় ক্রসফায়ারের ইঙ্গিত দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনভিপ্রেত।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্যে তীব্র নিন্দা জানালো আসক: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত বলে উদ্বেগ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’—পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) এমন বক্তব্যে তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটি বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে আসীন একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়; বরং তা আইনের শাসন, সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির সুস্পষ্ট পরিপন্থী। কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করার কোনো অধিকার রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেই।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায় আসক।

বিজ্ঞপ্তিতে আসক উল্লেখ করে, পুলিশের দায়িত্ব হলো প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং তাদের যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা। আইন প্রয়োগের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনার কথা বলা কখনোই দায়িত্বশীল আইন প্রয়োগের দৃষ্টান্ত হতে পারে না। এ ধরনের বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারত্ব, জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।

সংগঠনটি স্মরণ করিয়ে দেয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তি (আইসিসিপিআর) এবং নির্যাতনবিরোধী সনদের (ক্যাট) আলোকে নাগরিকদের জীবনের অধিকার রক্ষা, হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা।

আসক আরও মনে করে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে রাষ্ট্রের ইতিবাচক অঙ্গীকার ও ঘোষিত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এ ধরনের বক্তব্যের স্পষ্ট বৈপরীত্য ও অসংগতি রয়েছে। আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পরিবর্তে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পুনরায় ক্রসফায়ারের ইঙ্গিত দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অনভিপ্রেত।