দেশে বর্তমানে সারের কোনো ধরনের সংকট বা ঘাটতি নেই, বরং সারা দেশের কৃষকদের চাহিদা পুরোপুরি মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াসিন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, বাংলাদেশে অতীতেও সারের কোনো সংকট ছিল না এবং বর্তমানেও নেই। তবে বাজার অস্থিতিশীল করতে একটি অসাধু সিন্ডিকেট ও অসাধু চক্র সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালালেও তাদের সেই হীন চেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না।
গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের সার্বিক সার মজুত পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ে সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ডিলারশিপ প্রদান সংক্রান্ত একাধিক প্রশাসনিক বিষয় বিশদে উন্মোচন করেন।
সার্বিক তথ্যাদি তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারা দেশে মোট ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন বিভিন্ন প্রকার সার নিরাপদ মজুত হিসেবে রয়েছে। এই বিশাল পরিমাণ মজুত দেশের পুরো কৃষি খাতের সমসাময়িক চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তাঁর সরাসরি বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে সারের তীব্র কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে—মাঠপর্যায়ে এমন এক ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি অসাধু সুযোগসন্ধানী চক্র। তবে এ ধরনের ভিত্তিহীন অপচেষ্টা চালিয়ে কারও কোনো লাভ হবে না, কারণ দেশজুড়ে সারের সরবরাহ ও সরকারি মজুত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে সারের ডিলারশিপ বিতরণে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, নতুন ডিলার নিয়োগের সার্বিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা অব্যবস্থাপনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে অত্যন্ত শক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কেবল ডিলারশিপ প্রদানই নয়, বরং ডিলারশিপ চূড়ান্ত করার পরবর্তী যাবতীয় কার্যক্রম ও বিতরণ প্রক্রিয়াও অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
মন্ত্রী এ বিষয়ে আরও যোগ করে বলেন, নতুন ডিলারশিপ অনুমোদনের পর ৯০ দিনের প্রাথমিক সময়সীমার মধ্যে যদি কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা, কালোবাজারি বা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সামনে আসে, তবে সেই ডিলারশিপ পরিবর্তনের আইনি সুযোগ রাখা হয়েছে। সময়োপযোগী এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সারা দেশে সার বিতরণ কার্যক্রমে পূর্ণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ কৃষকদের হাতে একদম সঠিক সময়ে ও সরকারি মূল্যে সার পৌঁছানো পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এদিকে, জাতীয় চাহিদার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আমদানি-নির্ভর কৃষি পণ্যের তালিকা দিন দিন উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসছে বলেও ইতিবাচক তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধীনতার পর থেকে এমন কিছু নির্দিষ্ট নিত্যপণ্য ছিল, যেগুলো দেশের বিপুল অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। তবে চলতি বছরে এসে এ ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত সেই নির্দিষ্ট পণ্যগুলো বিদেশ থেকে আমদানির কোনো প্রয়োজনীয়তাই তৈরি হয়নি বলে স্পষ্ট জানান তিনি।
কৃষিমন্ত্রীর প্রদান করা দায়িত্বশীল বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে সারের সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত মজুত ধরে রাখা, ডিলারশিপ বরাদ্দে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বৈদেশীক আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে আনা—এসব বিষয় দেশের সার্বিক কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে প্রান্তিক কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী নির্বিঘ্নে সার সরবরাহ সুনিশ্চিত রাখা গেলে দেশের কৃষিকাজের স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়া বহাল রাখা অনেক বেশি সহজ হবে।






















