দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আগামী দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘মেডিকেল ফিজিক্স’ প্রোগ্রামের এক জাকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনার কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “ক্যান্সারের মতো জটিল ব্যাধির আধুনিক চিকিৎসাসেবা কেবল প্রধান প্রধান বিভাগীয় শহরকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের একদম জেলা পর্যায়েও সফলভাবে পৌঁছে দেওয়ার নিরলস প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। দেশের কোটি মানুষের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সঠিকভাবে অনুধাবন করে সমগ্র স্বাস্থ্যখাতকে পুরোপুরি জনমুখী করে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রাসঙ্গিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
দেশের চিকিৎসক সমাজের সার্বিক অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাঁদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, “মেধাবী চিকিৎসকেরা আমাদের পুরো দেশের মূল্যবান সম্পদ। যেকোনো জাতীয় ও সামাজিক সংকটকালে তাঁরা সাধারণ মানুষের সেবায় অকাতরে এগিয়ে আসেন। দিন-রাত কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি দেশের মানুষের শারীরিক কল্যাণে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে চিকিৎসকেরা সর্বদা প্রস্তুত থাকেন।”
চিকিৎসাসেবার বর্তমান মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন হাসপাতালের প্রশাসনিক উন্নতি প্রসঙ্গে তিনি তুলে ধরেন যে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে হাসপাতালগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করা হয়েছে এবং ভর্তি থাকা রোগীদের মানসম্মত খাবারের যোগানও উন্নত করা হয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মনে আগের চেয়ে সন্তুষ্টি বহুলাংশে বাড়ছে।
তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করে বলেন, “চিকিৎসাসেবার গুণগত মানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিন্তু অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব বেশি পিছিয়ে নেই। তবে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনো আরও উন্নতির বড় সুযোগ রয়েছে। বিগত দিনগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির নানা ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত লুটপাটের কারণে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সমগ্র স্বাস্থ্যখাতকে পুরোপুরি নতুন করে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকরভাবে কাজ করছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমেই জনগণের বহুল প্রত্যাশিত সঠিক স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করা হবে।”
উক্ত বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য অধ্যাপক সাঈদ ফারহাত আনোয়ার। আর অনুষ্ঠানের মুখবন্ধ পাঠ করে শোনান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম আবু জাকারিয়া।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও অন্যান্য আমন্ত্রিতদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সম্মানিত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তাফা আজিজ সুমন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন রুমি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী এবং অধ্যাপক ড. হাসিন অনুপমা আজহারিসহ আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পবন চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি অফিসিয়াল সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।


























