Dhaka ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বহুল আলোচিত ও অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে পৌঁছেছে, অন্যদিকে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের সার্বিক প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আসনটিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, অবাধ এবং যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবার একটি নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টায় আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা সমাপ্ত হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকা থেকে সমস্ত বহিরাগত ব্যক্তিদের অবিলম্বে এলাকা ত্যাগ করার কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হকের নিজ স্বাক্ষরে ইস্যু করা এক বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রকাশিত ওই গণবিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে শুরু করে আগামী ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ সম্পূর্ণভাবে বলবৎ ও কার্যকর থাকবে। নির্দেশনার এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যেসব ব্যক্তি ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কিংবা সংশ্লিষ্ট এলাকার নিবন্ধিত ভোটার নন, তাদের প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট ওই ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে অবস্থানের ওপর কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং গত ২৫ অক্টোবরের দাপ্তরিক চিঠির আলোকেই মূলত জেলা প্রশাসন এই সময়োপযোগী ও কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে নির্বাচনী কাজে সরাসরি পেশাগতভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধ পাস বা বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-সাংবাদিকবৃন্দ এবং কেবল সংশ্লিষ্ট এলাকার আসল ভোটারদের। জেলা প্রশাসক অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সম্পূর্ণ উৎসবমুখর ভোট অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে তৎপর থাকবেন। সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী কোনো বহিরাগত ব্যক্তি যদি এলাকা ত্যাগ না করে অবস্থান করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৯ অক্টোবর এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে বহুল প্রতীক্ষিত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন সম্মানিত ভোটারের এই বিশাল নির্বাচনী এলাকায় চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবার মোট পাঁচজন হেভিওয়েট প্রার্থী মাঠে লড়ছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন—বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা জোট সমর্থিত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। এছাড়াও কাদেদুল ইসলাম, আবদুল আলীম নিজামী এবং হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক এই নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, প্রলোভন বা শঙ্কা ছাড়াই সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটির জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বহুল আলোচিত ও অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে পৌঁছেছে, অন্যদিকে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের সার্বিক প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আসনটিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, অবাধ এবং যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবার একটি নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টায় আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা সমাপ্ত হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকা থেকে সমস্ত বহিরাগত ব্যক্তিদের অবিলম্বে এলাকা ত্যাগ করার কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হকের নিজ স্বাক্ষরে ইস্যু করা এক বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রকাশিত ওই গণবিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে শুরু করে আগামী ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ সম্পূর্ণভাবে বলবৎ ও কার্যকর থাকবে। নির্দেশনার এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যেসব ব্যক্তি ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কিংবা সংশ্লিষ্ট এলাকার নিবন্ধিত ভোটার নন, তাদের প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট ওই ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে অবস্থানের ওপর কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং গত ২৫ অক্টোবরের দাপ্তরিক চিঠির আলোকেই মূলত জেলা প্রশাসন এই সময়োপযোগী ও কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে নির্বাচনী কাজে সরাসরি পেশাগতভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধ পাস বা বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-সাংবাদিকবৃন্দ এবং কেবল সংশ্লিষ্ট এলাকার আসল ভোটারদের। জেলা প্রশাসক অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সম্পূর্ণ উৎসবমুখর ভোট অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে তৎপর থাকবেন। সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী কোনো বহিরাগত ব্যক্তি যদি এলাকা ত্যাগ না করে অবস্থান করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৯ অক্টোবর এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে বহুল প্রতীক্ষিত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন সম্মানিত ভোটারের এই বিশাল নির্বাচনী এলাকায় চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবার মোট পাঁচজন হেভিওয়েট প্রার্থী মাঠে লড়ছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন—বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা জোট সমর্থিত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। এছাড়াও কাদেদুল ইসলাম, আবদুল আলীম নিজামী এবং হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক এই নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, প্রলোভন বা শঙ্কা ছাড়াই সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটির জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করা হয়েছে।