Dhaka ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

জাতীয় সংসদের সম্মানিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে, সুদীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সুইডেন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে আসছে। সুইডেনের সুপ্রতিষ্ঠিত পার্লামেন্ট ব্যবস্থা মূলত এক-কক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি আরও বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র অনুশীলনের ক্ষেত্রে সুইডেন ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও আদর্শগত অনেক ক্ষেত্রে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

সংসদীয় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে যৌথ ‘সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ গঠন করা সম্ভব হলে তা উভয় দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ জন্মগতভাবেই পরম গণতন্ত্রপ্রিয়। এ দেশের আপামর জনগণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিতে কখনো কোনো কুণ্ঠা বোধ করেননি। তবে বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।”

স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, “২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ দেশের তরুণ ছাত্রসমাজ এবং সর্বস্তরের আপামর জনসাধারণ সেই দুঃসহ স্বৈরাচারী শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটিয়েছে। এ দেশের জনগণ সর্বদা নিজের পছন্দসই রাজনৈতিক দল ও পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে অভ্যস্ত। ভোটাররা তাঁদের মৌলিক গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই মূল সংসদীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করেন।”

আলোচনাকালে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস নিজ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিবরণ দিয়ে জানান, সুইডেনের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি প্রাতিষ্ঠানিক আসন রয়েছে। সেখানে সম্মানিত সদস্যরা সাধারণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট চার বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রভিত্তিক রাষ্ট্র হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার যাবতীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পার্লামেন্ট এবং গণতান্ত্রিক সরকারের হাতেই ন্যস্ত থাকে।

এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উভয় পক্ষই যৌথ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ ও বিশেষ ককাস গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এর পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতির প্রসারসহ দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির নানা সম্ভাবনা নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় দেশে চলমান জাতীয় সংবিধান সংস্কার কমিটির সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ উপকূলে অফশোরে মজুদকৃত মূল্যবান প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে এগিয়ে আসতে এবং উত্তোলনের কাজে অংশ নিতে সুইডিশ শীর্ষ কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে স্বাগত ও সাদর আমন্ত্রণ জানান। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সুইডিশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সম্মানিত সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় সংসদের সম্মানিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে, সুদীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সুইডেন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে আসছে। সুইডেনের সুপ্রতিষ্ঠিত পার্লামেন্ট ব্যবস্থা মূলত এক-কক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি আরও বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র অনুশীলনের ক্ষেত্রে সুইডেন ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও আদর্শগত অনেক ক্ষেত্রে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

সংসদীয় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে যৌথ ‘সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ গঠন করা সম্ভব হলে তা উভয় দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ জন্মগতভাবেই পরম গণতন্ত্রপ্রিয়। এ দেশের আপামর জনগণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিতে কখনো কোনো কুণ্ঠা বোধ করেননি। তবে বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে এ দেশের মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।”

স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, “২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ দেশের তরুণ ছাত্রসমাজ এবং সর্বস্তরের আপামর জনসাধারণ সেই দুঃসহ স্বৈরাচারী শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটিয়েছে। এ দেশের জনগণ সর্বদা নিজের পছন্দসই রাজনৈতিক দল ও পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে অভ্যস্ত। ভোটাররা তাঁদের মৌলিক গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই মূল সংসদীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করেন।”

আলোচনাকালে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস নিজ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিবরণ দিয়ে জানান, সুইডেনের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি প্রাতিষ্ঠানিক আসন রয়েছে। সেখানে সম্মানিত সদস্যরা সাধারণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট চার বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রভিত্তিক রাষ্ট্র হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার যাবতীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পার্লামেন্ট এবং গণতান্ত্রিক সরকারের হাতেই ন্যস্ত থাকে।

এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উভয় পক্ষই যৌথ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ ও বিশেষ ককাস গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এর পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতির প্রসারসহ দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির নানা সম্ভাবনা নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় দেশে চলমান জাতীয় সংবিধান সংস্কার কমিটির সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ উপকূলে অফশোরে মজুদকৃত মূল্যবান প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে এগিয়ে আসতে এবং উত্তোলনের কাজে অংশ নিতে সুইডিশ শীর্ষ কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে স্বাগত ও সাদর আমন্ত্রণ জানান। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সুইডিশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সম্মানিত সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।