ইরান থেকে রাশিয়ার কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োজিত পরমাণু বিশেষজ্ঞদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে খণ্ডন ও নাকচ করেছে মস্কো।
ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের বরাতে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সেখানে অবস্থানরত রুশ কর্মী ও বিশেষজ্ঞদের অপসরণ বা সরিয়ে নেওয়ার কোনো ধরনের পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে তাদের প্রতিদিনের প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নিয়ম অনুসরণ করেই চলমান রয়েছে।
রাশিয়ার খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম ‘ভেদোমোস্তি’-র বিশেষ প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম চ্যানেল ও অনির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ অ্যাগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্ম এই গুজব ও বানোয়াট দাবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করেছিল। একটি বিশেষ টেলিগ্রাম চ্যানেলের তরফ থেকে দাবি তোলা হয়েছিল যে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর বিদ্যুৎ স্থাপনা থেকে রুশ পরমাণু বিশেষজ্ঞ এবং অন্যাণ্য প্রযুক্তিবিদদের তড়িঘড়ি সরিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিশেষ সামরিক বা কূটনৈতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে তেহরানের রুশ দূতাবাস স্পষ্ট করে জানায়, কূটনৈতিক কার্যালয়ের কোনো সদস্য বা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কোনো রুশ বিশেষজ্ঞের ইরান ত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্ত বা কোনো পরিকল্পনা নেই। একই সাথে গণমাধ্যমে প্রচলিত এসব তথ্য ও জল্পনা-কল্পনাকে তারা পুরোপুরি ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে চিহ্নিত করে উড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তীব্র বিরোধ ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সাথে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক কেন্দ্র বুশেহর বারবার আন্তর্জাতিক নজরদারি ও হামলার ঝুঁকিতে পড়ে। এমন পরিস্থিতি চলাকালেই গত জুলাইয়ে উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত বেশ কিছু স্যাটেলাইট চিত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির অভ্যন্তরীণ অংশে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়।























