কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা চলতি ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে এসে রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সংকলিত আন্তর্জাতিক উপাত্তের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসেই এই ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী নানা বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর অন্তত ২৮টি সুনির্দিষ্ট হামলার ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে মোট হামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩টিতে। এই পরিসংখ্যানের সাথে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্যের ব্যাপক মিল রয়েছে; যাদের হিসাবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালিতে মোট ১২০টি হামলা ও নৌ-নিরাপত্তাসংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তারা মোট ১৩৫টি অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পেয়েছে। একই সাথে সংস্থাটি সতর্ক করে উল্লেখ করেছে যে, সমুদ্রের বাস্তব পরিস্থিতির কারণে সব হামলার তথ্য নথিপত্রে নাও আসতে পারে। আইএমওর সার্বিক পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বের মোট ৯০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক সুপারট্যাংকারের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ জাহাজ কোনো না কোনোভাবে হামলার শিকার হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী এই নৌপথে প্রতিনিয়ত হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে তীব্র আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।























