মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে রহস্যজনক সামুদ্রিক মাইন বিস্ফোরণের ফলে দুটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকারে আকস্মিক ভয়াবহ আগুন ধরে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আইআরজিসির প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাতে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঔদ্ধত্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থার বেপরোয়া অপতৎপরতা যদি একইভাবে অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে তেল কোম্পানিগুলোকে এর জন্য আরও অনেক চড়া ও বড় মূল্য পরিশোধ করতে হবে। তবে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আগুনে জ্বলতে থাকা তেলবাহী ট্যাংকার দুটির সুনির্দিষ্ট নাম, সেগুলোর বাণিজ্যিক মালিকানা, ক্রুদের হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা কিংবা বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইরানি বাহিনী।
এর আগে গত গত ১৪ অক্টোবর হরমুজ প্রণালিতে পৃথক ও ধারাবাহিক কয়েকটি হামলার তথ্য জানিয়েছিল আইআরজিসি। সে সময় নৌমাইনে আঘাত লেগে আড়াই হাজারের অধিক কনটেইনার বহনকারী একটি বিশাল মালবাহী জাহাজ পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া ওই জাহাজটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামক একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ছিল, যা প্রায় ২ হাজার ৮২৪ টি কনটেইনার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ছিল। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর হরমুজে অনুরূপ হামলার শিকার হয়ে অ্যান্টিগা ও বারবুদার পতাকাবাহী অপর একটি জাহাজও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এদিকে তেলবাহী ট্যাংকারের বিস্ফোরণের খবরের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত আধুনিক ও শক্তিশালী একটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ সামরিক ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করার বড় দাবি করেছে আইআরজিসি। ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার ভোরে কৌশলগত এই জলপথের আকাশ অতিক্রম করার সময় ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ভূপাতিত করা হয়। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এটি তাদের সামরিক ইতিহাসে ধ্বংস করা ৫৪তম মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন।
হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক মাইন বিস্ফোরণ, বাণিজ্যিক জাহাজডুবি এবং সর্বশেষ তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ড ও মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার এই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক নৌপথ ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।























