Dhaka ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ফ্রান্সে তুমুল বিক্ষোভ, আরও এলাকায় কারফিউর কড়া হুঁশিয়ারি

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার তীব্র প্রতিবাদে ফ্রান্স জুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার বর্তমান পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ায় দেশটির আরও কয়েকটি নতুন এলাকায় কঠোর কারফিউ জারির আনুষ্ঠানিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। উদ্ভূত পরিস্থিতি সার্বিক বিবেচনায় আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন করে কারফিউ জারির সরকারি ঘোষণা আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক সুনির্দিষ্ট বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানান যে, ইতিমধ্যে দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কারফিউ বলবৎ করার ফলস্বরূপ রাতের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ইতিবাচক সহায়তা মিলেছে। তাই স্থানীয় পরিস্থিতি যেখানেই কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাবে, সেখানেই নতুন করে নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনের প্রধানেরা নিজ নিজ এলাকার মেয়রদের সাথে নিবিড় সমন্বয় সাধন করে এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান। ইতিমধে৵ গত সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানী প্যারিস ও লিওনসহ বেশ কিছু সংবেদনশীল এলাকায় আংশিক কারফিউ সফলভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

ফরাসি পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতের সার্বিক পরিবেশ মোটের ওপর শান্ত থাকলেও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মার্টিনিকে বিক্ষোভ চলাকালে কিছু বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সর্বশেষ হিসাব দিয়ে ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন গণমাধ্যমকে জানান যে, বিগত সপ্তাহান্তে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সারা দেশ থেকে মোট ২ হাজার ৫১৩ জনকে পুলিশ আটক করেছে। তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৭ জনকে ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং একই সাথে বেশ কিছু ডজন ফৌজদারি বিচারিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

ইউরোপ ১ এবং সিএনিউজ-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিচারমন্ত্রী দারমানিন স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দেশে নতুন করে কোনো জরুরি অবস্থা জারি করার প্রয়োজন নেই। কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক নজরদারির মাধ্যমেই দেশের আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করা সম্ভব, এর জন্য সমগ্র জাতির ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব করার কোনো আবশ্যকতা নেই।

অন্যদিকে, ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে সরকারের নীতি নির্ধারকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, বিক্ষোভকারী সাধারণ মানুষের মৌলিক দাবিগুলোর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। লাখ লাখ সাধারণ মানুষ মূলত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নায্য দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষোভ করেছেন। কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে যাতে জাতীয় বাজেট বিতর্ক এবং বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলো আড়ালে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকার তাগিদ দেন।

অপরদিকে, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের প্রভাবশালী সংগঠন ‘মেডেফ’-এর সভাপতি প্যাট্রিক মার্টিন বর্তমান রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভ ও সংঘাতে দেশজুড়ে অন্তত ৩ হাজার ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র কারুশিল্পীরা যাতে দ্রুত তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে পারেন, সে বিষয়ে জরুরি সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেসক্যুর।

এমতাবস্থায়, বিখ্যাত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের একটি মূল সমন্বয়ক গোষ্ঠী আগামী ২৪ অক্টোবর দেশজুড়ে আবারও নতুন করে ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এর ফলে ফ্রান্সে আগত দিনগুলোতে নতুন করে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ফ্রান্সে তুমুল বিক্ষোভ, আরও এলাকায় কারফিউর কড়া হুঁশিয়ারি

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার তীব্র প্রতিবাদে ফ্রান্স জুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার বর্তমান পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়ায় দেশটির আরও কয়েকটি নতুন এলাকায় কঠোর কারফিউ জারির আনুষ্ঠানিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। উদ্ভূত পরিস্থিতি সার্বিক বিবেচনায় আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন করে কারফিউ জারির সরকারি ঘোষণা আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক সুনির্দিষ্ট বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানান যে, ইতিমধ্যে দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কারফিউ বলবৎ করার ফলস্বরূপ রাতের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ইতিবাচক সহায়তা মিলেছে। তাই স্থানীয় পরিস্থিতি যেখানেই কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাবে, সেখানেই নতুন করে নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনের প্রধানেরা নিজ নিজ এলাকার মেয়রদের সাথে নিবিড় সমন্বয় সাধন করে এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান। ইতিমধে৵ গত সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানী প্যারিস ও লিওনসহ বেশ কিছু সংবেদনশীল এলাকায় আংশিক কারফিউ সফলভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

ফরাসি পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতের সার্বিক পরিবেশ মোটের ওপর শান্ত থাকলেও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মার্টিনিকে বিক্ষোভ চলাকালে কিছু বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সর্বশেষ হিসাব দিয়ে ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন গণমাধ্যমকে জানান যে, বিগত সপ্তাহান্তে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সারা দেশ থেকে মোট ২ হাজার ৫১৩ জনকে পুলিশ আটক করেছে। তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৭ জনকে ইতোমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং একই সাথে বেশ কিছু ডজন ফৌজদারি বিচারিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

ইউরোপ ১ এবং সিএনিউজ-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিচারমন্ত্রী দারমানিন স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দেশে নতুন করে কোনো জরুরি অবস্থা জারি করার প্রয়োজন নেই। কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক নজরদারির মাধ্যমেই দেশের আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করা সম্ভব, এর জন্য সমগ্র জাতির ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব করার কোনো আবশ্যকতা নেই।

অন্যদিকে, ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে সরকারের নীতি নির্ধারকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, বিক্ষোভকারী সাধারণ মানুষের মৌলিক দাবিগুলোর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। লাখ লাখ সাধারণ মানুষ মূলত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের নায্য দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষোভ করেছেন। কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে যাতে জাতীয় বাজেট বিতর্ক এবং বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলো আড়ালে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকার তাগিদ দেন।

অপরদিকে, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের প্রভাবশালী সংগঠন ‘মেডেফ’-এর সভাপতি প্যাট্রিক মার্টিন বর্তমান রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভ ও সংঘাতে দেশজুড়ে অন্তত ৩ হাজার ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র কারুশিল্পীরা যাতে দ্রুত তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে পারেন, সে বিষয়ে জরুরি সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেসক্যুর।

এমতাবস্থায়, বিখ্যাত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের একটি মূল সমন্বয়ক গোষ্ঠী আগামী ২৪ অক্টোবর দেশজুড়ে আবারও নতুন করে ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এর ফলে ফ্রান্সে আগত দিনগুলোতে নতুন করে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।