বরিশাল মহানগরীর জনবহুল এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সশস্ত্র ঝটিকা মিছিল এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের তোলপাড় সৃষ্টিকারী ঘটনায় মোট ৭৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বরিশাল নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় বিশেষ আইনে এই মামলাটি রুজু করা হয়। দায়ের করা মামলায় সংগঠনটির ১৩ জন চিহ্নিত সাবেক নেতাকর্মীর নাম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার দুই দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত শনিবার সকালের দিকে বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম বাংলাবাজার এলাকায় হঠাৎ করেই সশস্ত্র অবস্থায় একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। মিছিল চলাকালে চারপাশের পরিবেশ ঘোলাটে করতে তারা একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। আচমকা বিকট শব্দে ককটেল ফুটার ঘটনায় সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ভীতির সঞ্চার হয়।
ঐ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দুই দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর আজ সোমবার কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বাদী হয়ে ঘটনার বিচার চেয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় এই মামলাটি করেন।
দায়েরকৃত মামলায় নামোল্লেখ করা সুনির্দিষ্ট আসামিরা হলেন— সাদ, মিরাজ, লাদেন, রাতুল, রাকিব, আবু বকর সিদ্দিক, রাশেদুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ মুন্না, তরিকুল ইসলাম রাজা, উজ্জল, খোকা, সীমান্ত এবং ইব্রাহিম। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, অভিযুক্ত এই সকল ব্যক্তিই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের স্থানীয় সাবেক নেতাকর্মী ও সমর্থক।
এদিকে বরিশাল বিভাগীয় সদর নগরীতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের একের পর এক প্রকাশ্য মিছিল ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় সাধারণ নাগরিকদের মনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের প্রবীণ বাসিন্দা রমিজ হাওলাদার নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বরিশালে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম শিথিলতা ও দুর্বলতার জলন্ত প্রমাণ হলো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এই ধরনের ঘনঘন মিছিল-সমাবেশ। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় একমাত্র বরিশাল নগরীতেই অপরাধী চক্র ও বিগত সরকারের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের সদস্যরা এমন বারবার সশস্ত্র মহড়া দেওয়ার দুসাহস দেখাচ্ছে।
তিনি ক্ষোভের সাথে আরও যোগ করেন যে, পুলিশ প্রশাসনের ঢিলেঢালা ভূমিকা ও দৃশ্যমান তৎপরতার অভাবেই সাবেক ক্ষমতাসীন দলের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা এলাকাভিত্তিক সশস্ত্র মিছিল ও সহিংসতা চালানোর সুযোগ ও সাহস পাচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ছাত্রলীগের বেআইনি মিছিল ও ককটেল ফাঁটানোর অপরাধে থানায় নিয়মিত মামলা নিবন্ধিত হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত এবং মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের সনাক্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে জোর অভিযান চালাচ্ছ।


























