পাঁচ দশকেরও বেশি অর্থাৎ দীর্ঘ ৫৯ বছরের বিশাল বয়সের ব্যবধান, সাথে দুটি ভিন্ন দেশ ও সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্ম-সংস্কৃতির সীমানা পেড়িয়ে ব্যতিক্রমী এক দাম্পত্য বন্ধন ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের মাঝে তোলপাড় ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তুরস্কের ২১ বছর বয়সী এক উদীয়মান যুবক সম্প্রতি বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন ৮০ বছর বয়সী এক প্রবীণ ইতালীয় নারীর সাথে। অদ্ভুত ও অসম এই ভালোবাসার সংবাদটি প্রকাশ পাওয়া মাত্রই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সম্পর্কের স্থায়িত্ব এবং এই বিশেষ বিয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে নানা কৌতুহলী প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।
প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মোহাম্মদ নামের ওই তুর্কি যুবক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁদের এই চিরন্তন বন্ধনের একমাত্র মূল ভিত্তি হলো নিছকই ভালোবাসা। বয়সের বিশাল পার্থক্য কিংবা সামাজিক বিধিনিষেধ তাঁদের অনুভূতিকে দমাতে পারেনি বলেই দুজনে মিলে আজীবন একসঙ্গে পথচলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
ভবিষ্যতের বিয়ের প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নিয়ে নিজের চমৎকার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ বলেন, তিনি তাঁর নববিবাহিত স্ত্রীকে খুব শিগগিরই নিজ জন্মভূমি তুরস্কে নিয়ে আসবেন। সেখানে তুর্কিদের চিরাচরিত শতবর্ষী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সব নিয়মকানুন মেনে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বিবাহের মূল উৎসব উদ্যাপন করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। এর মধ্য দিয়েই তাঁদের সুদীর্ঘ বৈবাহিক সম্পর্কের এক নতুন ও রঙিন অধ্যায় সূচনা হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সবাই।
তবে এই অস্বাভাবিক বিয়ের খরবটি নানা মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোতে চরম মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদল নেটিজেন তাঁদের এই যুগলবন্দীকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দ এবং ভালোবাসার জয় হিসেবে দেখে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। তবে অপর এক অংশ এত দীর্ঘ বয়সের তফাৎ ও অসম জীবনধারার কারণে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখা এবং এর পেছনে অন্য কোনো অলিখিত উদ্দেশ্য রয়েছে কি না তা নিয়ে নানা প্রকার নেতিবাচক প্রশ্ন তুলছেন।
বিশেষত, বিয়েটির পেছনে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ইতালির স্থায়ী নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট হস্তগত করার কোনো গোপন আর্থিক বা আইনি সুবিধা পাওয়ার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। নেটদুনিয়ার বেশ কিছু ব্যবহারকারী সরাসরি এমন সুবিধাবাদী বিয়ের দিকে আঙুল তুললেও, এ ধরনের জোরালো জল্পনা-কল্পনার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বস্তুনিষ্ঠ বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ মেলেনি।
প্রতিবেদনে নবদম্পতির একদম নিজস্ব বা গোপন উদ্দেশ্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সামনে আনা হয়নি। ফলে ইতালীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সহজ কৌশল হিসেবেই এই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে—এমন কোনো একপেশে বা বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনো প্রকার আইনগত বা যৌক্তিক সুযোগ নেই। একই সাথে, তাঁদের ভালোবাসার গভীরতা বা ভেতরের সত্যতা নিয়ে আগ বাড়িয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করার মতো পর্যাপ্ত নথিপত্রও সামনে আসেনি।
বাস্তবতা হলো, বিবাহ যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের পরম এক গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। দুটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বয়সের ব্যবধান অনেক বেশি হলেই তাঁদের সম্পর্ক বা উদ্দেশ্যের প্রতি নিশ্চিতভাবে কোনো মিথ্যা তকমা লাগিয়ে দেওয়া অনুচিত। এ ক্ষেত্রে কেবল দম্পতির নিজেদের দেওয়া বক্তব্য, তাঁদের অন্তরের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ভবিষ্যৎ পারিবারিক পরিকল্পনাই মূখ্য বিবেচ্য বিষয়।
সুতরাং, ৮০ বছর বয়সী ইতালীয় প্রবীণ নারী ও ২১ বছর বয়সী তুর্কি তরুণের এই রাজকীয় বিয়ে একদিকে যেমন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কৌতূহলকে উস্কে দিয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, বয়সের সুদীর্ঘ তফাৎ এবং দাম্পত্য সম্পর্কের উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিশ্ব-আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যেকোনো অপপ্রচার ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মাধ্যমে আসা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে নির্দ্বিধায় বলা যায়, তুর্কি যুবকটি তাঁদের সম্পর্কের প্রধান শক্তি হিসেবে শতভাগ ভালোবাসার কথাই ব্যক্ত করেছেন; এর বাইরে নাগরিকত্ব লাভ বা অন্য কোনো অনৈতিক সুবিধার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণের অস্তিত্ব মেলেনি।























