Dhaka ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

প্রশাসনের নীরবতায় মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীতে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব: স্থানীয়দের ক্ষোভ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানের সুযোগে পায়রা নদীতে মা ইলিশ শিকারের রীতিমতো মহোৎসব চলছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেরা নদীতে দিন-রাত ইলিশ শিকারে ব্যস্ত থাকলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। ইলিশ কেনার জন্য নদীর পারে ক্রেতারা ভিড় করছেন, তবে পরিচিত ছাড়া কারো কাছে বিক্রি করছেন না জেলেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বছর মা ইলিশ ধরা রুখতে নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রশাসনের তৎপরতা এতটা ঢিলেঢালা, যা নজিরবিহীন। বিগত বছরগুলোতে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল এবং প্রকাশ্যে এভাবে ইলিশ শিকার করতে পারত না। তাদের দাবি, স্পিডবোটের শব্দ শুনলেই জেলেরা দ্রুত জাল তুলে নৌকা নিয়ে কিনারে অবস্থান করতো। কিন্তু এখন স্পিডবোট নদীর মাঝখানে এসে অল্প সময় ভাসমান অবস্থায় থেকে, পুনরায় চলে যায়, জেলেদের ধাওয়া করা হয় না।

জানা গেছে, মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন থেকে মজিদবাড়িয়া পর্যন্ত পায়রা নদীর প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে রামপুর, ভিকাখালী, পিপড়াখালী, মনোহরখালী, গোলখালী, চরখালী, মাটিভাংগা, ভুতুম্মাসহ কমপক্ষে ১০টি পয়েন্টে চলছে মা ইলিশ ধরার মহোৎসব। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতাধিক জেলে প্রকাশ্যে ইলিশ শিকার করছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জেলেদের ইলিশ শিকারের মহোৎসব। রামপুর থেকে ভিকাখালী পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি নৌকায় জেলেরা মা ইলিশ শিকার করছে। ভিডিও করতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে নৌকার ইঞ্জিন চালু করে তারা নদীর মাঝখানে চলে যায়। দেখে মনে হয়, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তারা জানেনই না।

রামপুর গ্রামের বাসিন্দা জলিলুর রহমান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকে দিন-রাত জেলেরা নদীতে মাছ ধরেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মৎস্য, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের লোকজন অভিযানে বের হওয়ার আগেই কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ট্রলার ও স্পিডবোর্ডের মাঝিরা জেলেদের আগাম বার্তা দিয়ে দেন। এতে অভিযানের আগেই মাছ শিকার করে জেলেরা নৌকা নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু জেলে জানান, ‘নিষেধাজ্ঞা কেউই মানছে না। সবাই ধরে তাই আমরাও ধরি। নিষেধাজ্ঞাকালীন ইলিশ বেশি পাওয়া যায়।’ তবে তাদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রকৃত জেলেরা অনুদান পান না। অন্য পেশায় যারা আছেন, তারাই বিভিন্ন উপায়ে জেলে তালিকায় নাম দিয়ে অনুদান পেয়ে যান।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রশাসনের নীরবতায় মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীতে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব: স্থানীয়দের ক্ষোভ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৭:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানের সুযোগে পায়রা নদীতে মা ইলিশ শিকারের রীতিমতো মহোৎসব চলছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেরা নদীতে দিন-রাত ইলিশ শিকারে ব্যস্ত থাকলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। ইলিশ কেনার জন্য নদীর পারে ক্রেতারা ভিড় করছেন, তবে পরিচিত ছাড়া কারো কাছে বিক্রি করছেন না জেলেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বছর মা ইলিশ ধরা রুখতে নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রশাসনের তৎপরতা এতটা ঢিলেঢালা, যা নজিরবিহীন। বিগত বছরগুলোতে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল এবং প্রকাশ্যে এভাবে ইলিশ শিকার করতে পারত না। তাদের দাবি, স্পিডবোটের শব্দ শুনলেই জেলেরা দ্রুত জাল তুলে নৌকা নিয়ে কিনারে অবস্থান করতো। কিন্তু এখন স্পিডবোট নদীর মাঝখানে এসে অল্প সময় ভাসমান অবস্থায় থেকে, পুনরায় চলে যায়, জেলেদের ধাওয়া করা হয় না।

জানা গেছে, মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন থেকে মজিদবাড়িয়া পর্যন্ত পায়রা নদীর প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে রামপুর, ভিকাখালী, পিপড়াখালী, মনোহরখালী, গোলখালী, চরখালী, মাটিভাংগা, ভুতুম্মাসহ কমপক্ষে ১০টি পয়েন্টে চলছে মা ইলিশ ধরার মহোৎসব। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতাধিক জেলে প্রকাশ্যে ইলিশ শিকার করছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জেলেদের ইলিশ শিকারের মহোৎসব। রামপুর থেকে ভিকাখালী পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি নৌকায় জেলেরা মা ইলিশ শিকার করছে। ভিডিও করতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে নৌকার ইঞ্জিন চালু করে তারা নদীর মাঝখানে চলে যায়। দেখে মনে হয়, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তারা জানেনই না।

রামপুর গ্রামের বাসিন্দা জলিলুর রহমান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকে দিন-রাত জেলেরা নদীতে মাছ ধরেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মৎস্য, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের লোকজন অভিযানে বের হওয়ার আগেই কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ট্রলার ও স্পিডবোর্ডের মাঝিরা জেলেদের আগাম বার্তা দিয়ে দেন। এতে অভিযানের আগেই মাছ শিকার করে জেলেরা নৌকা নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু জেলে জানান, ‘নিষেধাজ্ঞা কেউই মানছে না। সবাই ধরে তাই আমরাও ধরি। নিষেধাজ্ঞাকালীন ইলিশ বেশি পাওয়া যায়।’ তবে তাদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রকৃত জেলেরা অনুদান পান না। অন্য পেশায় যারা আছেন, তারাই বিভিন্ন উপায়ে জেলে তালিকায় নাম দিয়ে অনুদান পেয়ে যান।