মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের চরম নেতিবাচক প্রভাবে ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ইতোমধ্যে ১০০ বিলিয়ন ইউরো বা ১১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধিত হয়েছে বলে সখেদে জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, এই ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আর্থিক ও সামাজিক কঠিন খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি লেখেন, “আমরা যারা শুরু থেকেই যুদ্ধের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলাম, আমাদের বক্তব্যই আজ শতভাগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে— আমরা কোনো যুদ্ধ চাইনি। আমরা ভালো করেই জানতাম, দিনশেষে এই যুদ্ধের ভয়াবহ মাশুল সাধারণ জনগণকেই গুনতে হবে।”
গত শুক্রবার ব্রাসেলসে আয়োজিত ইউরোপীয় কাউন্সিলের সম্মেলন সমাপ্তির পর আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী সানচেজ জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধের তীব্র বিরোধী দল ও দেশগুলো কেবল আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার দিক থেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক কুফল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও তাদের ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। আর এই অনাকাঙ্ক্ষিত কুফলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ইউরোপের কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে।
তিনি গভীর অনুতাপের সাথে আরও বলেন, যুদ্ধের শেষ পরিণতিতে সর্বসাধারণকেই এর চরম মূল্য চোকাতে হয়। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, ইতোমধ্যে ইউরোপজুড়ে এর ভয়াবহ প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
ইইউ সম্মেলনের আলোচনার তথ্য তুলে ধরে সানচেজ জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে এবং নিত্যপণ্য ও যানবাহন জ্বালানি ব্যবহারকারী সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে স্পেনের জাতীয় সংসদে ১২ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার) মূল্যমানের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটির ইতি টেনে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো কালবিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের অবসান ঘটানো।























