সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব দেশের সকল মানুষের মধ্যকার কৃত্রিম বিভাজন ও ভেদাভেদ মুছে দেয় এবং এক সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শক্তি জোগায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই মহান চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একই ভূখণ্ডের নিবাসী বিভিন্ন ধর্মের নাগরিকেরা পরস্পরের আনন্দ-উৎসবে একসঙ্গে শামিল হয়ে আসছেন।
গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত রমনা কালীমন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আজ এই ঐতিহাসিক রমনা কালীমন্দিরে পরম শ্রদ্ধায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। আমরা ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা অত্যন্ত উদারতার সাথে এই আনন্দময় পরিবেশ আমাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাজার বছর ধরে এ দেশের মানুষেরা আবহমানকাল ধরে একে অপরের সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে সম্প্রীতির মেলবন্ধন বজায় রেখেছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের এই গণতান্ত্রিক ও ধর্মীয় অধিকার স্বীকার করতে চায় না এবং পূজাকে কেন্দ্র করে নানামুখী অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তবে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতিটি মণ্ডপে পাহারাদার হিসেবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিন্দুমাত্র শঙ্কা ছাড়া আনন্দঘন পরিবেশে তাদের প্রধান উৎসব উদযাপন করতে পারেন। দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে দলের নেতাকর্মীরা এই নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখবেন।
সংখ্যালঘু কল্যাণে গৃহীত উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী জানান, পূর্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিটি মন্দিরের বিপরীতে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হতো, যা বাড়িয়ে বর্তমানে ৬০০ কেজিতে উন্নীত করা হয়েছে। একই সাথে এখন থেকে প্রতি মন্দিরে সরকারি অনুদান হিসেবে ৮ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে। উপরন্তু মন্দিরের পুরোহিতদের কল্যাণার্থে সরকার দুর্গাপূজার বিশেষ উৎসব ভাতা হিসেবে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে সাথে নিয়ে সমতার ভিত্তিতে কাজ করার এই উদার মনোভাব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দর্শন এবং এই চিন্তাই মূলত বিএনপির মূল রাজনৈতিক আদর্শ। সেই প্রগতিশীল চেতনা নিয়েই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে। আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিম সহ সকল ধর্মের মানুষ পূর্ণ সমান অধিকার ও মর্যাদার সাথে বসবাস করবেন।
উক্ত মণ্ডপ পরিদর্শন অনুষ্ঠানে শ্রী শ্রী আনন্দময়ী আশ্রমের সম্মানিত সভাপতি অপর্ণা রায় দাস, সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রচুর সংখ্যক ভক্ত ও পূজার্থী উপস্থিত ছিলেন।






















