Dhaka ০২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

নতুন সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দিয়ে ব্যক্তিগত বিকাশ ও মানসিক শান্তি অর্জনের উপায়

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৫ বার দেখা হয়েছে

মানবজীবনের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রূপান্তরকালীন পর্যায় হলো মধ্যবয়স। মনোবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে মনের ভেতর তৈরি হওয়া তীব্র একঘেয়েমি, বিষণ্ণতা এবং ক্যারিয়ার বা আত্মপরিচয় নিয়ে সৃষ্ট শূন্যতাকেই ‘মিডলাইফ ক্রাইসিস’ বা ‘মধ্যবয়সের মানসিক সংকট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সাধারণ মানুষের ধারণা এটি পারিবারিক ভাঙন বা বৈবাহিক অশান্তির কারণ হলেও, আধুনিক সমাজ-মনস্তত্ত্বের গবেষণা বলছে এটি কোনো ধ্বংসাত্মক রোগ নয়; বরং পুরোনো ও জীর্ণ সামাজিক মুখোশ ঝরিয়ে ফেলে নতুনভাবে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ। স্বাস্থ্য বিষয়ক পোর্টাল ‘সেলফ’-এ প্রকাশিত কানাডীয় লেখক ও মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ক্যাটালিনা মারগুলিসের অভিজ্ঞতার আলোকে মধ্যবয়সের এই মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং তা কাটিয়ে ওঠার তিনটি প্রধান দিক তুলে ধরা হয়েছে।

১. ‘হ্যাভিং ইট অল’ বা সর্বগ্রাসী সার্থকতা বাতিক বর্জন: আধুনিক যুগে, বিশেষ করে কর্মজীবী মায়েদের মধ্যে একাধারে সফল ক্যারিয়ার, সুখী দাম্পত্য এবং আদর্শ অভিভাবক হওয়ার যে সর্বগ্রাসী তাগিদ কাজ করে, তা অবাস্তব। সবকিছু নিখুঁতভাবে করার এই তীব্র প্রচেষ্টা মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রকে সারাক্ষণ ‘হাইপার-অ্যাক্টিভ’ বা অতিসক্রিয় রাখে, যার ফলে ভেতর থেকে একাকিত্ব, অবসাদ ও রাগ জন্ম নেয়। মধ্যবয়সের মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে এই নিখুঁত হওয়ার অবাস্তব চাহিদা বর্জন করতে হবে এবং নিজের ভুলগুলোকে সহজভাবে ক্ষমা করতে শেখা জরুরি।

২. গলদা চিংড়ির খোলস ঝরানোর কৌশল: সামুদ্রিক বিজ্ঞানের একটি উপমার সঙ্গে মানুষের মনস্তত্ত্বের মিল রয়েছে। গলদা বা লবস্টার যেমন বড় হওয়ার জন্য তার পুরোনো ও শক্ত খোলস পুরোপুরি ঝরিয়ে ফেলে, মানুষের মনও ঠিক একইভাবে কাজ করে। জীবনের এক অধ্যায় থেকে অন্য অধ্যায়ে পা রাখতে হলে পুরোনো কর্পোরেট পরিচয়, মানুষের মেকি বিচার বা জাজমেন্টের মানসিকতা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ দায়িত্বগুলোর খোলস সচেতনভাবে ঝরিয়ে ফেলা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৩. ব্যক্তিগত বিকাশ ও সৃজনশীলতা: মধ্যবয়সের তীব্র অবসাদ দূর করার অন্যতম উপায় হলো অবচেতন স্নায়ুর মনোযোগকে নতুন কোনো সৃজনশীল কাজের দিকে ধাবিত করা। জীবনের না-পাওয়া বা জমে থাকা ক্ষোভ ডায়েরির পাতায় লেখা, বই রচনা করা বা কোনো পাবলিক স্পিকিং কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়া মস্তিষ্কে নতুন উদ্দীপনা জোগান দেয়। ব্যক্তিগত রূপান্তরের এই চর্চা আত্মসম্মান বহুগুণ বাড়িয়ে মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞের মতে, মানুষের জীবনে প্রতি ৫ থেকে ৭ বছর পর পর চিন্তার নতুন চক্র আবর্তিত হয়, তাই ৪০-এর কোঠায় এসে জীবনকে ব্যর্থ মনে করার কোনো অবকাশ নেই। তবে রূপান্তরের এই সময়ে যদি অতিরিক্ত অনিদ্রা, অবসাদ বা দীর্ঘ ক্লান্তি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে, তবে তা অবহেলা না করে দ্রুত একজন নিবন্ধিত মনোবিদের পেশাদার পরামর্শ নেওয়া উচিত।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নতুন সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দিয়ে ব্যক্তিগত বিকাশ ও মানসিক শান্তি অর্জনের উপায়

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানবজীবনের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রূপান্তরকালীন পর্যায় হলো মধ্যবয়স। মনোবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে মনের ভেতর তৈরি হওয়া তীব্র একঘেয়েমি, বিষণ্ণতা এবং ক্যারিয়ার বা আত্মপরিচয় নিয়ে সৃষ্ট শূন্যতাকেই ‘মিডলাইফ ক্রাইসিস’ বা ‘মধ্যবয়সের মানসিক সংকট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সাধারণ মানুষের ধারণা এটি পারিবারিক ভাঙন বা বৈবাহিক অশান্তির কারণ হলেও, আধুনিক সমাজ-মনস্তত্ত্বের গবেষণা বলছে এটি কোনো ধ্বংসাত্মক রোগ নয়; বরং পুরোনো ও জীর্ণ সামাজিক মুখোশ ঝরিয়ে ফেলে নতুনভাবে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ। স্বাস্থ্য বিষয়ক পোর্টাল ‘সেলফ’-এ প্রকাশিত কানাডীয় লেখক ও মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ক্যাটালিনা মারগুলিসের অভিজ্ঞতার আলোকে মধ্যবয়সের এই মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং তা কাটিয়ে ওঠার তিনটি প্রধান দিক তুলে ধরা হয়েছে।

১. ‘হ্যাভিং ইট অল’ বা সর্বগ্রাসী সার্থকতা বাতিক বর্জন: আধুনিক যুগে, বিশেষ করে কর্মজীবী মায়েদের মধ্যে একাধারে সফল ক্যারিয়ার, সুখী দাম্পত্য এবং আদর্শ অভিভাবক হওয়ার যে সর্বগ্রাসী তাগিদ কাজ করে, তা অবাস্তব। সবকিছু নিখুঁতভাবে করার এই তীব্র প্রচেষ্টা মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রকে সারাক্ষণ ‘হাইপার-অ্যাক্টিভ’ বা অতিসক্রিয় রাখে, যার ফলে ভেতর থেকে একাকিত্ব, অবসাদ ও রাগ জন্ম নেয়। মধ্যবয়সের মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে এই নিখুঁত হওয়ার অবাস্তব চাহিদা বর্জন করতে হবে এবং নিজের ভুলগুলোকে সহজভাবে ক্ষমা করতে শেখা জরুরি।

২. গলদা চিংড়ির খোলস ঝরানোর কৌশল: সামুদ্রিক বিজ্ঞানের একটি উপমার সঙ্গে মানুষের মনস্তত্ত্বের মিল রয়েছে। গলদা বা লবস্টার যেমন বড় হওয়ার জন্য তার পুরোনো ও শক্ত খোলস পুরোপুরি ঝরিয়ে ফেলে, মানুষের মনও ঠিক একইভাবে কাজ করে। জীবনের এক অধ্যায় থেকে অন্য অধ্যায়ে পা রাখতে হলে পুরোনো কর্পোরেট পরিচয়, মানুষের মেকি বিচার বা জাজমেন্টের মানসিকতা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ দায়িত্বগুলোর খোলস সচেতনভাবে ঝরিয়ে ফেলা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৩. ব্যক্তিগত বিকাশ ও সৃজনশীলতা: মধ্যবয়সের তীব্র অবসাদ দূর করার অন্যতম উপায় হলো অবচেতন স্নায়ুর মনোযোগকে নতুন কোনো সৃজনশীল কাজের দিকে ধাবিত করা। জীবনের না-পাওয়া বা জমে থাকা ক্ষোভ ডায়েরির পাতায় লেখা, বই রচনা করা বা কোনো পাবলিক স্পিকিং কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়া মস্তিষ্কে নতুন উদ্দীপনা জোগান দেয়। ব্যক্তিগত রূপান্তরের এই চর্চা আত্মসম্মান বহুগুণ বাড়িয়ে মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞের মতে, মানুষের জীবনে প্রতি ৫ থেকে ৭ বছর পর পর চিন্তার নতুন চক্র আবর্তিত হয়, তাই ৪০-এর কোঠায় এসে জীবনকে ব্যর্থ মনে করার কোনো অবকাশ নেই। তবে রূপান্তরের এই সময়ে যদি অতিরিক্ত অনিদ্রা, অবসাদ বা দীর্ঘ ক্লান্তি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে, তবে তা অবহেলা না করে দ্রুত একজন নিবন্ধিত মনোবিদের পেশাদার পরামর্শ নেওয়া উচিত।