ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও শহর এডেনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ প্রাঙ্গণে বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র সংগঠন হুথি। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংঘটিত এই মারাত্মক সামরিক হামলায় অন্তত ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে ইয়েমেন সরকার। উল্লেখনীয় যে, আক্রান্ত এই বিশাল প্রাসাদের ভেতরেই সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেন সরকারের মূল কেন্দ্রীয় কার্যালয় বা প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। তবে ভয়াবহ এই হামলার ঘটনা ঘটলেও দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সদস্যরা সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদে রয়েছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি জানান, এডেন শহরের আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসকে সরাসরি নিশানা বানিয়ে হুথি বিদ্রোহীরা পরপর পাঁচটি বিপজ্জনক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনি মন্ত্রিসভার তরফ থেকে ইস্যু করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র আল-মাশিক প্রাসাদে পরিচালিত এই হামলা মূলত হুথিদের ক্রমাগত বাড়তে থাকা হিংসাত্মক তৎপরতারই একটি অশুভ অংশ। ঘটনার সময় প্রাসাদের সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষী সরাসরি হতাহত হয়েছেন।
যদিও ইয়েমেনের আনুষ্ঠানিক ও ঐতিহাসিক রাজধানী হিসেবে সানা বিবেচিত হয়, তথাপি দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সৌদি সমর্থিত সরকার এডেন শহরকে তাদের অন্তর্বর্তীকালীন বা সাময়িক রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করে আসছে।
চলমান মাসের শুরুর দিকে বিদ্রোহী হুথিদের শেকড় উপড়ে ফেলতে ইয়েমেন সরকারের সামরিক বাহিনী ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে যে দীর্ঘস্থায়ী ও সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এটিই ইয়েমেন সরকারের ওপর হুথিদের চালানো এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও হাই-প্রোফাইল প্রতিশোধমূলক হামলাগুলোর অন্যতম একটি।
সামরিক কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করে হুথিদের প্রধান সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, এডেনে অবস্থানরত ‘সৌদি শত্রু জোটের’ সার্বিক সামরিক মহড়া ও অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দুটি সম্পূর্ণ গুড়িয়ে দেওয়াই ছিল তাঁদের এই হামলার মূল কৌশলগত উদ্দেশ্য।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রাণঘাতী এই হামলার ঘটনার উপযুক্ত জবাব দিতে এবং হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে জোরালো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার কূটনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হুথিদের নির্দিষ্ট কোনো নির্দিষ্ট স্থায়ী সদরদপ্তর বা সেনা ছাউনি নেই বললেই চলে যেখানে যেয়ে সেনাবাহিনী সরাসরি পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে। তাছাড়া আকাশপথে যেকোনো বিমান হামলা কিংবা ড্রোন হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকার নানা সামরিক কৌশল রপ্ত করেছেন।
আপনার প্রদান করা নির্দেশনাবলী শতভাগ কঠোরভাবে অনুসরণ করে প্রতিবেদনটি রি-রাইট করা হলো। আগামীতে যেকোনো নিউজের ক্ষেত্রে একইভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি।























