রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলীয় কামচাতকা উপদ্বীপে রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে পুরো এলাকা জুড়ে এই তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয়। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ঘটনার সাথে সাথে কোনো ধরনের বড় আকারের প্রাণহানি বা ভৌগোলিক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা বা ইএমএসসির (EMSC) দেওয়া তথ্য অনুসারে জানা যায়, ভূকম্পনটির মূল উৎপত্তিস্থল বা কেন্দ্র ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে আনুমানিক ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম দিশায়। তদুপরি ভূমির উপরিভাগ হতে এই ভূকম্পনের গভীরতা ছিল প্রায় ১৪০ কিলোমিটার নিচে।
কম্পন সংঘটিত হওয়ার পরপরই সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে কোনো প্রকার জরুরি সুনামি সতর্কবার্তা জারি করার প্রয়োজন পড়েনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট মানের ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রে প্রলয়ংকরী সুনামি সৃষ্টির কোনো আশঙ্কাই নেই।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিএনও নিউজের এক প্রতিবেদনে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী দেশ জাপানের আবহাওয়া দপ্তর (জেএমএ) প্রাথমিক ভুলের কারণে দুর্ঘটনাবশত রেকর্ড ভেঙে ৯ দশমিক ৯ মাত্রার এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের ক্ষতিকর আগাম সতর্কবার্তা জারি করে বসেছিল। যার দরুন জাপানের একটি বিশাল অঞ্চলের অধিবাসীদের মাঝে অতি তীব্র মাত্রার কম্পনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরবর্তীকালে সংস্থাটির নিজস্ব পরিমাপযন্ত্রে এই ভূকম্পনের প্রকৃত মাত্রা ৬ দশমিক ৯ হিসেবে নির্ধারিত হয়।
যদি তাদের প্রাথমিক সেই ভুল বার্তাটি বাস্তবে সত্য হতো, তবে তা হতো এ যাবৎকালের লিপিবদ্ধ মানব ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ও শক্তিশালী ভূমিকম্প।
ভৌগোলিক পরিভাষায় জানা যায়, রাশিয়ার বিখ্যাত কামচাতকা উপদ্বীপ মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের চরম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ও বিস্তৃত ‘রিং অব ফায়ার’ নামের পরিচিত টেকটোনিক প্লেটের সংযোগ বলয়ের ওপর অবস্থিত। বিশ্বজুড়ে প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই অঞ্চলটিকে ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কম্পনপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উল্লেখ্য যে, বিগত বছরের জুলাই মাসেও কামচাতকা উপদ্বীপের উপকূলবর্তী সমুদ্রসীমায় ৮ দশমিক ৮ মাত্রার একটি অতি শক্তিশালী ভূকম্পন আঘাত এনেছিল। যার ভয়াল প্রভাবে সৃষ্টি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত সামুদ্রিক সুনামির ধাক্কায় পুরো একটি উপকূলীয় জনপদের কিছু বড় এলাকা সমুদ্রের লোনা জলে চিরতরে বিলীন হয়ে যায়।























