ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা এলাকায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আট বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অপরাধে আকিদুল শেখ (২৫) নামের এক তরুণকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন বিচারালয়। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে নগদ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে শাস্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অপরাহ্ণ দুইটার দিকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এই চূড়ান্ত রায় জারি করেন।
আদালতে আদেশ পাঠের সময়ে অভিযুক্ত আসামি কাঠগড়ায় হাজির ছিল। পরবর্তীতে রায় ঘোষণার পর তাকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়। সাজার মুখোমুখি হওয়া আকিদুল শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার অন্তর্গত নওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সেলিম শেখের পুত্র।
মামলার বিবরণী ও ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পাশবিকতার শিকার ওই শিশুকন্যা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। ২০২১ সালের ২০ জুন প্রাতঃকালে সে নিজ গৃহ থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে জল জমে থাকায় আসামি আকিদুল শেখ তাকে জল পার করে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। পরবর্তীতে ফাঁদ পেতে তাকে পথের পাশে থাকা একটি বাঁশঝাড়ের ভেতর নিয়ে গিয়ে জঘন্যভাবে ধর্ষণ করে।
উক্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২১ জুন ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে আকিদুল শেখকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসন তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে সুনির্দিষ্ট চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি বিচার-বিশ্লেষণ শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ পান এবং তাকে মৃত্যুদণ্ডসহ দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
আদালতের এই রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া জানান, দেশের কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা এবং এই জাতীয় জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন বিচারালয়। রায় ঘোষণার পরপরই সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামিকে প্রহারায় রেখে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।


























