নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট, কৃত্রিম সংকট তৈরি ও মূল্য কারসাজি প্রতিরোধে দেশের ৪৬টি জেলায় একযোগে ব্যাপক তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ১২০টি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ৬১টি তদারকি টিম একযোগে ফল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এই সাড়াশী অভিযান পরিচালনা করে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর জানায়, নিত্যপণ্যের বাজারদর স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধ করাই এই তদারকির মূল উদ্দেশ্য। অভিযান পরিচালনাকালে কর্মকর্তারা বাজারে পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার, দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা টাঙানো হয়েছে কি না এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না তা কড়াকড়িভাবে যাচাই করেন।
তদারকিকালে অসাধু ব্যবসায়ীদের পণ্য অপ্রতুল দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা, অন্যায্য মজুতদারি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফল বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, পচা বা পচনশীল ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা এবং ফলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা অননুমোদিত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ ভোক্তাদের উদ্দেশ্যেও বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। যেকোনো পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা ভালো করে দেখে নেওয়া, পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরীক্ষা করা এবং কেনাকাটার ক্যাশ মেমো বা রশিদ সংগ্রহ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রবঞ্চনার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বর ‘১৬১২১’-এ অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। জনস্বার্থে ও বাজারব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এই তদারকি অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


























