আজারবাইজানের স্কুলগুলোতে হিজাব নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তুরস্কের বিরুদ্ধে উত্তেজনা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বাকু। দেশটির ক্ষমতাসীন নিউ আজারবাইজান পার্টি (ওয়াইএপি) মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) কয়েকজন নেতা ও তাদের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম এই ইস্যুতে ‘কৃত্রিম উত্তেজনা’ সৃষ্টি করছে। এর ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও দলটি সতর্ক করেছে।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের নেতৃত্বাধীন দলটি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা ওকতাই সারালসহ একেপির কয়েকজন নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব নেতা আজারবাইজানের স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। সারাল সোমবার বলেন, হিজাব পরার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই নীতি থেকে সরে আসতে আজারবাইজান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি আজারবাইজানের বিভিন্ন স্কুলের বাইরে হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের কান্না ও বিক্ষোভের ভিডিও তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই বিষয়টি নিয়ে আঙ্কারার ওপর আজারবাইজানের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার চাপ বাড়ে। এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সোমবার অন্তত ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আজারবাইজানের কর্তৃপক্ষ। একই দিন দেশটিতে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয় বলেও খবর পাওয়া গেছে।
হিজাব বিতর্কের পাশাপাশি ইসরাইলের সঙ্গে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশের সমালোচনা বাড়ছে। এ বিষয়ে নিউ আজারবাইজান পার্টি নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে বাকু। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দলটি।
হিজাব নিষেধাজ্ঞার সমালোচনার জবাবে ক্ষমতাসীন দলটি বলেছে, ইসলামি বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রেরই অন্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া কিংবা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে দলটি আরও বলেছে, মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবি বাস্তব সহযোগিতা, সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে; আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতার মাধ্যমে নয়।
আজারবাইজান সংবিধান অনুযায়ী একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র উল্লেখ করে দলটি জানায়, ধর্মীয় পোশাকের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা তুর্কি জনগণের ঐক্য কিংবা মুসলিম বিশ্বের সংহতির জন্য সহায়ক নয়। ‘এক জাতি, দুই রাষ্ট্র’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দলটি সতর্ক করেছে যে, তুরস্কের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য অব্যাহত থাকলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সমালোচনামূলক বক্তব্যের পর তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আজারবাইজানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা আঙ্কারার নেই। তুরস্ক সরকারও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। ওই কর্মকর্তা বিষয়টিকে ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করে জানান, বাকুকে আশ্বস্ত করতে তুরস্কের উচ্চপর্যায় থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে।























