Dhaka ১০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

গাজায় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে ভবন, বৃষ্টিতে ডুবছে তাঁবু: নতুন মানবিক সংকট

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ বার দেখা হয়েছে

গাজায় শীতের আগমন নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই এলাকায় ঘরবাড়ি হারানো ফিলিস্তিনিরা একদিকে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁবুতে আশ্রয় নিলে বৃষ্টি, বন্যা ও তীব্র ঠান্ডার মুখে পড়ছেন। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে হাজারো পরিবারের জীবন এখন দুই ধরনের বিপদের মধ্যে আটকে গেছে।

গাজার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে এখনো বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছেন। এসব ভবনের দেয়াল ও ছাদ থেকে প্রায়ই কংক্রিটের টুকরো খসে পড়ছে। তা সত্ত্বেও আসন্ন শীতের ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পরিবারগুলো এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাকে তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

কিন্তু এসব ভবনে থাকলেও বিপদ কাটছে না। ছাদ ও দেয়ালের ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে অস্থায়ী বসবাসের জায়গা ভিজিয়ে দিচ্ছে। প্লাস্টিক ও কাপড়ের টুকরো দিয়ে ফাটল বন্ধ করে ঠান্ডা বাতাস ঠেকানোর চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা। এমনকি পানি সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময়ও তাঁদের ধসে পড়ার আশঙ্কায় থাকা দেয়াল ও ভবনের নিচ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাস্তুচ্যুত মাহের আওয়াদ খাদের। তার ভাষ্য, সেখানে বসবাস করার সময় প্রায়ই তাদের ওপর পাথর ও কংক্রিটের টুকরো পড়ে। পানি আনতে গেলেও বিপদের মুখে পড়তে হয়। প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে সেখানে অবস্থান করছেন মাহের। তার কোনো চাকরি বা আয়ের উৎস নেই। পরিবারের জন্য বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার মতো আর্থিক সামর্থ্যও নেই। তাঁর অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কোনো মানবিক সহায়তাকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি ভবনের নিচে পরিবার নিয়ে থাকছেন তাহের হাজ্জো। আগের শীতেও ভবনটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছিল। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও থেকে কংক্রিট ও ধ্বংসাবশেষ খসে পড়ত। আসন্ন শীতের কথা মাথায় রেখে তিনি এখন সন্তানদের সুরক্ষায় আশপাশের জায়গা বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে শক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে এতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে না। ভবনের ছাদ যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে কীভাবে দিন কাটছে, জানতে চাইলে তাহেরের উত্তর, তাদের কিছুই করার নেই।

গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাসের বিপদ এরই মধ্যে প্রাণহানির ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত মাসে গাজা সিটির সাবরা এলাকায় আল-সাআদা আবাসিক ভবন ধসে ২১ জন নিহত হন। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এর কয়েক দিন পর একই এলাকায় আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনও ধসে পড়ে। এসব ঘটনা যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে আশ্রয় নেওয়া হাজারো মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গাজার গণপূর্ত ও আবাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায়ের মূল্যায়নের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পুরো গাজা উপত্যকায় প্রায় ৩ হাজার ভবনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিকল্প আশ্রয়ের অভাবে অনেক পরিবার সেগুলোতেই অবস্থান করছে। শীতকালে ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও প্রতিকূল আবহাওয়া ভবনগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া দেয়াল ও ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়বে।

গাজা সিটির কর্মকর্তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসরত মানুষদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, শীতের প্রতিকূল আবহাওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলবে। স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো মেরামত, শক্তিশালী করা কিংবা বিপজ্জনক স্থাপনাগুলো থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও নির্মাণসামগ্রী তাদের হাতে নেই।

এদিকে, ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি, উদ্ধারযান ও কংক্রিট কাটার সরঞ্জাম প্রবেশেরও আহ্বান জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী প্রস্তুতকৃত আবাসন ও জরুরি আশ্রয় উপকরণ সরবরাহের দাবিও উঠেছে। তবে এসব সহায়তার উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত মাহের ও তাহেরের মতো হাজারো পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আজ রাতে তারা কোথায় নিরাপদে ঘুমাবেন? যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষের জন্য বাস্তুচ্যুতি এখন শুধু নতুন করে বোমা হামলা বা উচ্ছেদের আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং মাথার ওপর থাকা ছাদটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়বে কি না, সেই আতঙ্কও তাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

গাজায় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে ভবন, বৃষ্টিতে ডুবছে তাঁবু: নতুন মানবিক সংকট

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

গাজায় শীতের আগমন নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই এলাকায় ঘরবাড়ি হারানো ফিলিস্তিনিরা একদিকে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁবুতে আশ্রয় নিলে বৃষ্টি, বন্যা ও তীব্র ঠান্ডার মুখে পড়ছেন। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে হাজারো পরিবারের জীবন এখন দুই ধরনের বিপদের মধ্যে আটকে গেছে।

গাজার বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে এখনো বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছেন। এসব ভবনের দেয়াল ও ছাদ থেকে প্রায়ই কংক্রিটের টুকরো খসে পড়ছে। তা সত্ত্বেও আসন্ন শীতের ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পরিবারগুলো এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাকে তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

কিন্তু এসব ভবনে থাকলেও বিপদ কাটছে না। ছাদ ও দেয়ালের ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে অস্থায়ী বসবাসের জায়গা ভিজিয়ে দিচ্ছে। প্লাস্টিক ও কাপড়ের টুকরো দিয়ে ফাটল বন্ধ করে ঠান্ডা বাতাস ঠেকানোর চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা। এমনকি পানি সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময়ও তাঁদের ধসে পড়ার আশঙ্কায় থাকা দেয়াল ও ভবনের নিচ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাস্তুচ্যুত মাহের আওয়াদ খাদের। তার ভাষ্য, সেখানে বসবাস করার সময় প্রায়ই তাদের ওপর পাথর ও কংক্রিটের টুকরো পড়ে। পানি আনতে গেলেও বিপদের মুখে পড়তে হয়। প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে সেখানে অবস্থান করছেন মাহের। তার কোনো চাকরি বা আয়ের উৎস নেই। পরিবারের জন্য বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার মতো আর্থিক সামর্থ্যও নেই। তাঁর অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কোনো মানবিক সহায়তাকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি ভবনের নিচে পরিবার নিয়ে থাকছেন তাহের হাজ্জো। আগের শীতেও ভবনটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছিল। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও থেকে কংক্রিট ও ধ্বংসাবশেষ খসে পড়ত। আসন্ন শীতের কথা মাথায় রেখে তিনি এখন সন্তানদের সুরক্ষায় আশপাশের জায়গা বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে শক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে এতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে না। ভবনের ছাদ যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে কীভাবে দিন কাটছে, জানতে চাইলে তাহেরের উত্তর, তাদের কিছুই করার নেই।

গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাসের বিপদ এরই মধ্যে প্রাণহানির ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত মাসে গাজা সিটির সাবরা এলাকায় আল-সাআদা আবাসিক ভবন ধসে ২১ জন নিহত হন। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এর কয়েক দিন পর একই এলাকায় আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনও ধসে পড়ে। এসব ঘটনা যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে আশ্রয় নেওয়া হাজারো মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গাজার গণপূর্ত ও আবাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায়ের মূল্যায়নের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পুরো গাজা উপত্যকায় প্রায় ৩ হাজার ভবনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিকল্প আশ্রয়ের অভাবে অনেক পরিবার সেগুলোতেই অবস্থান করছে। শীতকালে ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও প্রতিকূল আবহাওয়া ভবনগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া দেয়াল ও ছাদ ধসে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়বে।

গাজা সিটির কর্মকর্তারা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসরত মানুষদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, শীতের প্রতিকূল আবহাওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলবে। স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো মেরামত, শক্তিশালী করা কিংবা বিপজ্জনক স্থাপনাগুলো থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও নির্মাণসামগ্রী তাদের হাতে নেই।

এদিকে, ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি, উদ্ধারযান ও কংক্রিট কাটার সরঞ্জাম প্রবেশেরও আহ্বান জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী প্রস্তুতকৃত আবাসন ও জরুরি আশ্রয় উপকরণ সরবরাহের দাবিও উঠেছে। তবে এসব সহায়তার উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত মাহের ও তাহেরের মতো হাজারো পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আজ রাতে তারা কোথায় নিরাপদে ঘুমাবেন? যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষের জন্য বাস্তুচ্যুতি এখন শুধু নতুন করে বোমা হামলা বা উচ্ছেদের আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং মাথার ওপর থাকা ছাদটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়বে কি না, সেই আতঙ্কও তাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।