সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার হামলার ছবি-ভিডিও ধারণ করায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে একাধিক আমেরিকান নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। সোমবার, রিয়াদস্থ মার্কিন দূতাবাস এক জরুরি বার্তায় নিজেদের নাগরিকদের গ্রেপ্তারের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়েছে, সৌদিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক হামলা ও তার ধ্বংসস্তূপের ছবি তোলার অপরাধে কয়েকজন মার্কিন নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তবে কতজন আমেরিকানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
দূতাবাস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি সরকারের সাম্প্রতিক কড়া আইনি হুঁশিয়ারির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানিয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধ, আঘাতপ্রাপ্ত স্থান এবং তার ক্ষয়ক্ষতির যেকোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ করা, প্রকাশ করা কিংবা শেয়ার করা সৌদি আইনে চরম দণ্ডনীয় অপরাধ এবং তা আইনগত ঝুঁকির সামিল।
পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটায় সৌদি আরবে কর্মরত নিজ দেশের সরকারি কর্মীদের জন্য কঠোর ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন মিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সৌদিতে অবস্থানরত মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের দেশটির যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করার আগে এখন থেকে দূতাবাসের বিশেষ লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
একই সঙ্গে সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদেরও সৌদি আরবের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘চরম সতর্কতা’ অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে রিয়াদ ও আবহাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শুধু রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে গত শনিবারের এক একক হামলাই কেড়ে নেয় ১৩ জনের জীবন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও শত শত বেসামরিক মানুষ। এর আগে আসির প্রদেশের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের পৃথক হামলায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
সৌদি রাজতন্ত্রকে কেঁপে দেওয়া এই নজিরবিহীন বিমান হামলা এবং তার জের ধরে মার্কিন নাগরিকদের গ্রেপ্তার ও বিমান চলাচলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।























