রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ট্রাকে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩০ হাজার পিস ভয়াবহ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আন্তঃজেলা মাদক কারবারি চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, উদ্ধার করা এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবার আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন তাঁর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এই চাঞ্চল্যকর মাদক চালানের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।
ডিবি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়া তিন ব্যক্তি হলেন—যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার গয়রা এলাকার অধিবাসী আমিন উদ্দিনের ছেলে মো. রমজান আলী (৩৪), একই থানার দিঘীপাড়া গ্রামের মৃত কাওসার আলীর ছেলে ট্রাকচালক মো. আরমান হোসেন ইউনুস (৩০) এবং কাগমারী এলাকার মো. মালেক মোড়লের ছেলে ট্রাক চালকের সহকারী (হেলপার) মো. আরিফ হোসেন (৩২)। আটককৃতদের মধ্যে মো. রমজান আলীকে দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানে যুক্ত মূল মাদক কারবারি ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে বিস্তারিত জানা যায় যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি সুসজ্জিত ও চৌকস দল দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি বিশেষ পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপন করে। এ সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে আসা বিভিন্ন দূরপাল্লার যানবাহনে কড়া তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ তল্লাশির একপর্যায়ে ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ঝুটবোঝাই একটি সন্দেহভাজন টাটা কার্গো ট্রাককে থামার জন্য সংকেত প্রদান করে ডিবি পুলিশ।
পরবর্তীতে ট্রাকটিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানোর সময় চালকের পেছনের আসনে বিশেষ কায়দায় শুয়ে থাকা রমজান আলীর মাথার নিচ থেকে গোপন অবস্থায় রাখা ১৫০টি নীল রঙের জিপার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। উক্ত জিপার প্যাকেটগুলোর ভেতর থেকে সুনির্দিষ্টভাবে গণনা করে সর্বমোট ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরপরই মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত টাটা কার্গো ট্রাকটি তাৎক্ষণিকভাবে সিজার লিস্টের মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি তৈরি পোশাক কারখানার জুট ও সুতা পরিবহনের আড়ালে বেশ কিছু দিন ধরে অভিনব কৌশল অবলম্বন করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় অঞ্চলে মাদকের বড় বড় চালান পাচার করে আসছিল। জব্দ করা ৩০ হাজার পিস ইয়াবার আনুমানিক মোট বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা।
ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ।

























