উত্তর আমেরিকায় ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র হতে চলেছে ওয়াশিংটন ডিসিতে। আর সেই মুহূর্তেই উঠে এসেছে এক অস্বস্তির গল্প প্রচণ্ড গরম, অস্বাভাবিক আবহাওয়া আর দূষিত বাতাস যেন ছায়া ফেলছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চের ওপর।
আগাম প্রস্তুতি চলছে নিরলস। স্টেডিয়াম পুনর্গঠন, নিরাপত্তা জোরদার, কর্মী নিয়োগ—সবই সাজানো। কিন্তু প্রকৃতির খামখেয়ালিকে থামাবে কে? আগামী জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে যে উৎসবের আয়োজন, সেখানে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা হয়ে উঠছে নতুন আতঙ্ক।
এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আয়োজক ১৬ শহরের ১০টিই রয়েছে ‘চরম তাপমাত্রার অত্যন্ত ঝুঁকিতে’। টরন্টোর গবেষক মাডি অররের ভাষায়—সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে পারে ম্যাচ বাতিল হলে। কার্যক্রম থেমে গেলে ফিরে দিতে হতে পারে টিকিটের মূল্য, আর কর্মীদের দিতে হতে পারে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক। আইনি ক্ষতিপূরণ একেক ম্যাচে পৌঁছতে পারে লাখো ডলারে।
গত গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও দেখা গিয়েছিল দীর্ঘ বিলম্ব। অরল্যান্ডোতে প্রবল বৃষ্টি আর বজ্রঝড়ে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ পিছিয়ে গিয়েছিল দুই ঘণ্টারও বেশি। নিউ জার্সি ও সিনসিনাটিতেও খেলা থেমে ছিল অনেকটা সময়।
ভক্তদের জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন সতর্কতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—বীমা করা, টিকিট-ফ্লাইট-হোটেলের নিয়ম ভালোভাবে পড়ে নেওয়া এখন জরুরি। কোন ম্যাচ বাতিল হলে টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে, কিন্তু খেলা পুনঃনির্ধারিত হলে যাত্রা আর থাকা-খাওয়ার বাড়তি খরচ বইতে হবে নিজেকেই। অনেকেরই অজানা—ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বুকিং করলে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে আয়োজকদের প্রস্তুতিও বাড়ছে। কানসাস সিটি—ঝুঁকির তালিকায় থাকা শহরগুলোর একটি। সেখানে তৈরি হচ্ছে হিট-টাস্ক ফোর্স—শীতলীকরণ কেন্দ্র, ছায়া দেওয়ার ব্যবস্থা, মিস্টিং ফ্যান, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ—সবই যেন ভক্তদের নিরাপত্তার জন্যে।
আয়োজক কমিটির প্রধান পাম ক্রেমারের ভাষায়—আমরা সময় ঠিক করতে পারি না, কিন্তু নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে ফিফাকে পরামর্শ দিতে পারি। এখানকার দলগুলো নিয়মিতই তাপের সঙ্গে লড়াই করে—আমরা জানি কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়।
কিন্তু কানাডাও কোনোভাবেই নিশ্চিন্ত নয়। টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারের উপর দিয়ে কয়েক বছর ধরে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ আর বনের আগুনের ধোঁয়া আবার ছুঁতে পারে বিশ্বকাপকে। যদি আকাশ ধোঁয়ায় ভারী হয় কিংবা তাপমাত্রা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে—ম্যাচ সরাতেও হতে পারে অন্য শহরে।
তবু আশাবাদ অটুট। ভ্যাঙ্কুভারের এক দোকানদার মার্ক কেনা বললেন—ঝড়-বৃষ্টি-ধোঁয়া যাই আসুক, আগামী বছর ব্যবসা হবে দারুণ। ফুটবলের উৎসব তার দোকানের শোকেসেও আলো ফেলে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস রাখেন।
তার ভাষায়—আমরা ফুটবল নিয়ে অনেক পণ্য তৈরি করেছি। আশা করি বিশ্বকাপ শহরটিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলবে।
জুন-জুলাইয়ের উত্তপ্ত আকাশে যখন বিশ্বকাপের বোনা স্বপ্ন মাঠে নামবে, তখন প্রকৃতির আচরণই হয়তো ঠিক করে দেবে—উৎসব হবে নিরবচ্ছিন্ন, নাকি থেমে থেমে, ছায়ায়-ছায়ায়। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের আশা—ঝড়-ধোঁয়া সব পেরিয়ে গোলের আনন্দই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে।
















