সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একদিন আগের ভয়াবহ হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় গত রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) রাতের এই আকস্মিক হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষ। নিহত ওই ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ।
সৌদির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এর ওপর একটি দূরপাল্লার বস্তু আঘাত হানার পর সেখানে আকস্মিক আগুন ধরে যায়। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে যে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝপথেই সফলভাবে রুখে দেয় এবং তা ধ্বংস করে দেয়। সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই হামলায় বিমানবন্দরের ঠিক কী পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনের মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি চতুর্থ দফার হামলার ঘটনা। এর আগে গত শনিবারের (১০ অক্টোবর) হামলাটি ছিল অত্যন্ত প্রাণঘাতী, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। তার ঠিক একদিন পর সর্বশেষ এই হামলাটি চালানো হলো।
এদিকে রোববার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারে গত শনিবারের হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, হুতি বাহিনী সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাহরান ও দাম্মামের বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল জায়ান্ট ‘সৌদি আরামকো’-র দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও আঘাত হنےছে। তবে হুতিদের এই দাবির বিষয়ে সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস কিংবা আরামকো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
হুতিদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ১২৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের হুতি-পরিচালিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে, সৌদি শত্রুরা যদি ইয়েমেনে সামরিক আক্রমণ ও অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ না করে, তবে সামনে আরও ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।























