সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত হুথিদের চালানো সাম্প্রতিক ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তায় যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ রিয়াদের পাশে থাকবে এবং সম্ভাব্য সব উপায়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। গত রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, রিয়াদের বিমানবন্দরে চালানো ওই হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিনশটিরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমান চলাচল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে গত ৬ ও ৭ অক্টোবর রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে চালানো হামলায় তিনজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল পাকিস্তান। পরবর্তীতে চলতি বছরের আগস্ট মাসে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিও সম্পাদন করে ইসলামাবাদ। সৌদি আরবের নিরাপত্তার ওপর এ ধরনের যেকোনো হুমকি ও আগ্রাসনের বিষয়ে এর আগেও হুথিদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছিল পাকিস্তান।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শাহবাজ শরিফ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের পবিত্র দায়িত্ব। হুথিদের এই ধারাবাহিক হামলাকে তিনি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করে জানান যে, পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক কোনো ধরনের বহিঃশত্রুর আগ্রাসন সহ্য করতে পারে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বিষয়টির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে, অন্যথায় পাকিস্তান তার সৌদি ভাইবোনদের প্রতি সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে।
এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, বেসামরিক বিমানবন্দর ও জনবহুল এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। জাতীয় সংসদের স্পিকার আয়াজ সাদিকও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। এছাড়া গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, গত আগস্টে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইতিমধ্যেই সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা দেশটির নিরাপত্তায় বিভিন্ন সক্ষমতা ও ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।























