সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবারের রক্তক্ষয়ী হামলায় ১২ জনের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই রোববার রাতে রিয়াদ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চার নম্বর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে একটি ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ আঘাত হানে, যার ফলে সেখানে আগুন ধরে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই রিয়াদের কেন্দ্রস্থলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
ইয়েমেনে যৌথ অভিযান পরিচালনাকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশেই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে। তবে, একই সময়ে বিমানবন্দরের চার নম্বর টার্মিনালে একটি প্রজেক্টাইল সরাসরি আঘাত হানে এবং আগুন ধরে যায়। উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
এই দ্বিতীয় দফা হামলার ঠিক এক ঘণ্টা আগেই ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পাল্টা বিমান হামলা চালায় সৌদি জোট। ধারণা করা হচ্ছে, সানায় হামলার পরপরই রিয়াদকে লক্ষ্য করে পাল্টা মিসাইল কিংবা ড্রোন হামলা চালায় হুথিরা।
রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে যে বিকট শব্দ শোনা যায়, তা হুথিদের মিসাইল নাকি তা ধ্বংস করতে যাওয়া আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগে শনিবারেও রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের রক্তক্ষয়ী হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন মারাত্মকভাবে আহত হন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের ১ জন করে নাগরিক এবং ৫ জন সৌদির নাগরিক রয়েছেন।
পরপর দুই দিন বিমানবন্দরে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এমন ভয়াবহ হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিমানবন্দর টার্মিনালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গত প্রায় দুই মাস ধরে সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলা এই রক্তক্ষয়ী ও হিংসাত্মক হামলা-পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, আর এর সরাসরি বলি হতে হচ্ছে নিরীহ প্রবাসীদের।























