ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে এবার সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিতে পারে বলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের চালানো আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক এক হামলার পরপরই মার্কিন গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করেন তিনি। সৌদি ভূখণ্ডে চালানো ওই ভয়াবহ হামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৩০৯ জন আহত হওয়ার মর্মান্তিক তথ্য পাওয়া গেছে।
সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, “আমরা বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করতে পারি। আমরা এ বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব এবং খুব দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নেব।” তবে সম্ভাব্য এই সামরিক পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি সে সময় গণমাধ্যমের কাছে আর কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করেননি।
এদিকে, রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো এই নজিরবিহীন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর কঠোর জবাব দেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি গণমাধ্যমে দেওয়া এক ভাষ্যে জানান যে, হুতি বিদ্রোহীরা সরাসরি বিমানবন্দরের জনবহুল যাত্রী টার্মিনালে অত্যন্ত কাপুরুষোচিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এই বর্বরোচিত হামলায় সাধারণ যাত্রীসহ বিমানবন্দরের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মীরা হতাহত হয়েছেন। তুর্কি আল-মালিকির জোরালো ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং প্রচলিত যুদ্ধনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী হওয়ায় হুতিদের এই হামলাটি সরাসরি একটি যুদ্ধাপরাধের শামিল। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের যাবতীয় নিয়মাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করেই জোটের যৌথ সামরিক বাহিনী এই ন্যাক্কারজনক হামলার দাঁতভাঙা ও কঠোর জবাব নিশ্চিত করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সৌদি আরবের আকাশপথ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হুতিদের এই মারাত্মক হামলায় মোট ১২ জন নিহত এবং কমপক্ষে তিনশ নয়জন আহত হয়েছেন। হামলার পরপরই নিরাপত্তা ও জনসচেতনতার অংশ হিসেবে বিমানবন্দরটির অপারেশনাল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেখানে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কঠোরভাবে যাচাই করে দেখছে। এদিকে, বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি এবং সাধারণ নাগরিকদের ভ্রমণ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দূতাবাসগুলো তাদের দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর এলাকা ও এর আশপাশ এড়িয়ে চলার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা সৌদি অ্যারাবিয়ান অয়ারলাইনসের একটি চলন্ত উড়োজাহাজকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেই পূর্ববর্তী হামলায় তিন জন সৌদি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্বাভাবিক করা হয়েছিল, তবুও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে হুতি বিদ্রোহীরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাত্রা নাটকীয়ভাবে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের ধারাবাহিক সংঘাত চলে আসছে। মূলত ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং আশপাশের বেশ কিছু প্রদেশ হুতি বিদ্রোহীরা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। এর প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈধ ইয়েমেন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী আঞ্চলিক জোট।























