সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত পাইলটের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। নিহত ওই পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন হামুদ আলি আলকালথামি। তিনি সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ‘সৌদিয়া এয়ারলাইন্স’-এর একজন অভিজ্ঞ পাইলট ছিলেন। এই হামলায় সংস্থাটির একটি পার্ক করে রাখা যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বার্তা২৪.কম’-এর এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সৌদি সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হুথিরা পরপর দুটি পূর্ণাঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। প্রথম হামলায় মূলত বিমানবন্দরের মূল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দ্বিতীয় হামলাটি সরাসরি একটি রানওয়েতে অবস্থানরত সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। ধারণাগোচর দ্বিতীয় সেই হামলায় ঘটনাস্থলেই বিমানটিতে উপস্থিত পাইলট ক্যাপ্টেন হামুদ আলি আলকালথামিসহ মোট তিনজন সৌদি নাগরিক প্রাণ হারান।
সৌদিয়া এয়ারলাইন্স এক জরুরি বিবৃতিতে জানায়, হামলার শিকার হওয়া যাত্রীবাহী বিমানটিতে ঘটনার সময় কোনো সাধারণ যাত্রী উপস্থিত ছিলেন না, যার ফলে এক বিশাল প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সকল জরুরি নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে হামলায় বিমানটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বিমানবন্দর হামলায় কেবল সৌদি নাগরিক নয়, বরং অন্যান্য বিভিন্ন দেশের প্রবাসী নাগরিকরাও আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই রিয়াদ বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। মাত্র গত সপ্তাহেই বিমানবন্দরে চালানো এমনই এক পৃথক হামলায় সুদানীয় এক নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছিলেন। সর্বশেষে চালানো এই হামলার মাধ্যমে ইয়েমেন সীমান্তে চলমান মধ্যপ্রাচ্যীয় সামরিক উত্তেজনা নতুন করে আরও ঘনীভূত হলো।























