কোনো অর্থনৈতিক সমীক্ষা ছাড়াই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য নতুন উড়োজাহাজ কেনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিমানকে একটি দক্ষ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে বিপুল পরিমাণ উড়োজাহাজ কেনার এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় এই সংস্থার জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রী চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই এগুলো কেনা হচ্ছে।
বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর সঙ্গে আগামী ৩ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আরও ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে, যার মধ্যে ২৫টি মার্কিন বোয়িং এবং ১০টি ইউরোপীয় এয়ারবাস কোম্পানির। ইতিমধ্যে বোয়িং ও এয়ারবাসের সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। একসঙ্গে এত উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, একসঙ্গে এত উড়োজাহাজ কেনার পূর্বপরিকল্পনা বা কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই বিমান করেনি। বোয়িংয়ের এক প্রতিবেদনেও বিমানের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানের উড়োজাহাজগুলোতে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক বেশি কারিগরি ত্রুটি দেখা যায় এবং মেরামতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
বিশাল এই বহর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পাইলট ও কেবিন ক্রুর তীব্র সংকট রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ২১৮ জন পাইলট ও ৬০০ কেবিন ক্রু দিয়ে কার্যক্রম চললেও নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ৭০০ থেকে ৮৫০ জন পাইলটের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া পার্কিং, রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের চাপ সামলানোর মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামোও নেই।
তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর রহমান জানিয়েছেন, বিমানের চাহিদার ভিত্তিতে এবং দীর্ঘমেয়াদি পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় এগুলো কেনা হচ্ছে, যা জাতীয় বাজেটে সরাসরি চাপ ফেলবে না। অন্যদিকে, বোয়িং কেনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।






















