চলতি বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত ভয়াবহ যুদ্ধে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত হওয়া লেবাননের সাধারণ নাগরিকদের জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর নিকট বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রেরণ করেছে ইরান। বিশ্বস্ত ও সরাসরি সংশ্লিষ্ট দুটি কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হিজবুল্লাহ-সমর্থিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ত্রাণের জন্য ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো এই অনুদানটি এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় সরাসরি আর্থিক সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হিজবুল্লাহর দায়িত্বশীল ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একজন প্রতিনিধিও ইরান থেকে এই আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়টি সত্য বলে স্বীকার করেছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কঠোর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ওই প্রতিনিধি অর্থের সুনির্দিষ্ট উৎস, কোন গোপন বা বিশেষ পদ্ধতিতে এই বিশাল পরিমাণ অর্থ লেবাননের অভ্যন্তরে পৌঁছেছে কিংবা কোন কোন চ্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জানা গেছে, ইরান থেকে প্রাপ্ত এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তার একটি বড় অংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মাঝে নগদ অর্থ হিসেবে বিতরণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই তহবিলের আওতায় মোট প্রায় ৫০ হাজার পরিবারকে মাথাপিছু ৩ হাজার মার্কিন ডলার করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে যেসব পরিবারের নিজস্ব বসতভিটা বা আস্ত একটি গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তাদের এই সহায়তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। একইভাবে যেসব সীমান্ত ও জনবহুল এলাকা এখনো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ উপস্থিতি কিংবা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সাধারণ মানুষের বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে রয়েছে, সেসব এলাকার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারাও এই বিশেষ আর্থিক সহায়তার আওতাভুক্ত হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং চরম অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও তেহরানের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহর কাছে এই ধরনের বড় অঙ্কের নগদ অর্থায়ন লেবাননে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের টিকিয়ে রাখা এবং যুদ্ধোত্তর মানবিক সংকট মোকাবেলায় ইরানের অবিচল প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ। তবে এই স্পর্শকাতর অর্থ কীভাবে অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং নিশ্ছিদ্র গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে লেবাননে সফলভাবে প্রবেশ করানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ধরনের বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে যে, অর্থের গতিপথ বা লেনদেনের সুনির্দিষ্ট মাধ্যম প্রকাশ পেলে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এবং অর্থ স্থানান্তরের ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্কগুলো চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।























