Dhaka ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনার পর অর্ধশতাধিক শিশুর ইনফেকশন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা করানোর একটি চিকিৎসাসেবা ক্যাম্পের পর মারাত্মক বিপর্যয় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে। খতনা করানোর মাত্র দুই দিনের মাথায় দ্বীপের অর্ধশতাধিক শিশুর ক্ষতস্থানে গুরুতর ইনফেকশন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে আতঙ্কিত ও উৎকণ্ঠিত স্বজনেরা অসুস্থ শিশুদের নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে দ্রুত ছুটে যান। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অন্তত দু’জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে টেকনাফ উপজেলা সদরে রেফার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও আয়োজকদের প্রদান করা তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির একটি বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের সার্বিক নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ওই কর্মসূচিতে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী মোট ২১০ জন শিশুর সুন্নতে খতনা সম্পন্ন করে এবং পরবর্তীতে তাদের বিনামূল্যে কিছু ওষুধপত্র প্রদান করে। এই মেডিকেল টিমটি সেন্টমার্টিনে কার্যক্রম পরিচালনার পূর্বে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে যথাযথ অনুমতি গ্রহণ করেছিল বলে জানা গেছে।

তবে খতনা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বিভিন্ন শিশুর অভিভাবক ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মারাত্মক অনিয়ম, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে জনপ্রতি ১০০ টাকা থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও ৭০০০ বা ৭০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অত্যন্ত নিম্নমানের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ, অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ সেলাই এবং খতনার পর সঠিকভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরিচর্যার নির্দেশনা না দেওয়ার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। খতনা করানোর পর থেকেই কোনো কোনো শিশুর ক্ষতস্থানে অসহ্য ব্যথা, অতিরিক্ত ফুলে যাওয়া এবং পুঁজ জমতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে যে, খতনার কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরপরই সংশ্লিষ্ট মেডিকেল টিমের সদস্যরা দ্রুত সেন্টমার্টিন দ্বীপ ত্যাগ করে চলে যান।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, খতনা করানো প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায় যে অনেকের ক্ষেত্রেই ক্ষতস্থানে মারাত্মক ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হলেও দু’জন শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাদের দ্রুত টেকনাফে রেফার করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলামও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২১০ শিশুর খতনা করানোর দুই দিন পর থেকেই শিশুদের মধ্যে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক জানিয়েছেন যে, সেন্টমার্টিনে একটি মেডিকেল টিম দুই শতাধিক শিশুর খতনা করার পর অর্ধশতাধিক শিশু ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, দ্বীপটিতে এ ধরনের একটি বড় চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প পরিচালনার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে পূর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি বা তারা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন। সার্বিক বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান যে, খতনা করানোর পর বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি তাঁর গোচরীভূত হয়েছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল টিমের কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনার পর অর্ধশতাধিক শিশুর ইনফেকশন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা করানোর একটি চিকিৎসাসেবা ক্যাম্পের পর মারাত্মক বিপর্যয় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে। খতনা করানোর মাত্র দুই দিনের মাথায় দ্বীপের অর্ধশতাধিক শিশুর ক্ষতস্থানে গুরুতর ইনফেকশন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে আতঙ্কিত ও উৎকণ্ঠিত স্বজনেরা অসুস্থ শিশুদের নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে দ্রুত ছুটে যান। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অন্তত দু’জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে টেকনাফ উপজেলা সদরে রেফার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও আয়োজকদের প্রদান করা তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির একটি বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের সার্বিক নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ওই কর্মসূচিতে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী মোট ২১০ জন শিশুর সুন্নতে খতনা সম্পন্ন করে এবং পরবর্তীতে তাদের বিনামূল্যে কিছু ওষুধপত্র প্রদান করে। এই মেডিকেল টিমটি সেন্টমার্টিনে কার্যক্রম পরিচালনার পূর্বে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে যথাযথ অনুমতি গ্রহণ করেছিল বলে জানা গেছে।

তবে খতনা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বিভিন্ন শিশুর অভিভাবক ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মারাত্মক অনিয়ম, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে জনপ্রতি ১০০ টাকা থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও ৭০০০ বা ৭০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অত্যন্ত নিম্নমানের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ, অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ সেলাই এবং খতনার পর সঠিকভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরিচর্যার নির্দেশনা না দেওয়ার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। খতনা করানোর পর থেকেই কোনো কোনো শিশুর ক্ষতস্থানে অসহ্য ব্যথা, অতিরিক্ত ফুলে যাওয়া এবং পুঁজ জমতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে যে, খতনার কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরপরই সংশ্লিষ্ট মেডিকেল টিমের সদস্যরা দ্রুত সেন্টমার্টিন দ্বীপ ত্যাগ করে চলে যান।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, খতনা করানো প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায় যে অনেকের ক্ষেত্রেই ক্ষতস্থানে মারাত্মক ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হলেও দু’জন শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাদের দ্রুত টেকনাফে রেফার করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলামও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২১০ শিশুর খতনা করানোর দুই দিন পর থেকেই শিশুদের মধ্যে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক জানিয়েছেন যে, সেন্টমার্টিনে একটি মেডিকেল টিম দুই শতাধিক শিশুর খতনা করার পর অর্ধশতাধিক শিশু ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, দ্বীপটিতে এ ধরনের একটি বড় চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প পরিচালনার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে পূর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি বা তারা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন। সার্বিক বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান যে, খতনা করানোর পর বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি তাঁর গোচরীভূত হয়েছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল টিমের কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।