কর ফাঁকি রোধ, করজাল ও আয়কর রিটার্নের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সম্ভাব্য করদাতা শনাক্ত করার যুগান্তকারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ব্যাংক হিসাব, ভূমি ও ফ্ল্যাট, সড়ক পরিবহন, সঞ্চয়পত্র এবং বিদেশ ভ্রমণের যাবতীয় তথ্য এনবিআরের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে একীভূত করার সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিশেষ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডাটাবেজের সঙ্গে করদাতাদের আয়কর নথি মিলিয়ে দেখার একটি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিলাসবহুল ও দামি গাড়ির মালিকরা নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দিচ্ছেন কি না এবং তাঁদের প্রদর্শিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে গাড়ির ক্রয়মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হবে। এর ফলে তথ্য গোপনের প্রবণতা বা প্রকৃত সম্পদের চেয়ে কম সম্পদ দেখানোর অপচেষ্টা সহজেই ধরা পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) ব্যক্তি থাকলেও মাত্র ৪৭ লাখ মানুষ নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। ফলে বিপুলসংখ্যক টিআইএনধারীকে রিটার্ন দাখিলের আওতায় আনার বিশাল সুযোগ রয়েছে। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কর ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটি যেন কোনোভাবেই সাধারণ করদাতাদের হয়রানির কারণ না হয়, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।


























