Dhaka ০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল কর্মসংস্থান নয়, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন: প্রধানমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:৪৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৯ বার দেখা হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য কেবল কর্মসংস্থান তৈরি করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন করাও এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে নৈতিকতাহীন জ্ঞান সমাজের জন্য কল্যাণের বদলে অকল্যাণ বয়ে আনতে পারে।

সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন বিশিষ্ট শিক্ষকের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ১০ জন, মাধ্যমিকের ২০ জন, কলেজের ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জন, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন এবং অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত ৭ জন শিক্ষককেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পারিবারিক শিক্ষার পর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকরাই সবচেয়ে বড় আদর্শ। শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের আপনজন হয়ে উঠতে পারেন, তবে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে শিক্ষাদান পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও সিলেবাসের সংস্কার সময়ের দাবি। বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন সিলেবাস তৈরি করেছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পাবে।

মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাব তৈরির ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন জাগিয়ে তুলতে হবে। কৌতূহল থাকলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নিজেদের শিক্ষক হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামের নতুন বই দেওয়া হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা নিশ্চিত করা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও এটি চালু করা হবে।

প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প নয় বরং সহায়ক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যেই ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।

শিক্ষা খাতকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে। কোনো শিশুই যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং ঝরে পড়লেও যেন বেকার না থাকে, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশের মাধ্যমিক স্তরের অধিকাংশ শিক্ষা বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য দূর করে সব অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

শিক্ষকতা পেশাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো সাধারণ চাকরি বা বিকল্প পেশা নয়। শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রতি বছর নীতিমালার ভিত্তিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানোর নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বা কর্মরত সব শিক্ষকই রাষ্ট্রের কাছে আজীবন সম্মাননীয়। শিক্ষকরা যাতে অবসরভাতা বা বেতনের জন্য কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল কর্মসংস্থান নয়, নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন: প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:৪৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য কেবল কর্মসংস্থান তৈরি করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন করাও এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে নৈতিকতাহীন জ্ঞান সমাজের জন্য কল্যাণের বদলে অকল্যাণ বয়ে আনতে পারে।

সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন বিশিষ্ট শিক্ষকের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ১০ জন, মাধ্যমিকের ২০ জন, কলেজের ২৫ জন, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ জন, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন এবং অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত ৭ জন শিক্ষককেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পারিবারিক শিক্ষার পর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকরাই সবচেয়ে বড় আদর্শ। শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের আপনজন হয়ে উঠতে পারেন, তবে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে শিক্ষাদান পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও সিলেবাসের সংস্কার সময়ের দাবি। বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন সিলেবাস তৈরি করেছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পাবে।

মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাব তৈরির ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন জাগিয়ে তুলতে হবে। কৌতূহল থাকলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নিজেদের শিক্ষক হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামের নতুন বই দেওয়া হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা নিশ্চিত করা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও এটি চালু করা হবে।

প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প নয় বরং সহায়ক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যেই ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে।

শিক্ষা খাতকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে। কোনো শিশুই যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং ঝরে পড়লেও যেন বেকার না থাকে, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশের মাধ্যমিক স্তরের অধিকাংশ শিক্ষা বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য দূর করে সব অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

শিক্ষকতা পেশাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো সাধারণ চাকরি বা বিকল্প পেশা নয়। শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রতি বছর নীতিমালার ভিত্তিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানোর নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বা কর্মরত সব শিক্ষকই রাষ্ট্রের কাছে আজীবন সম্মাননীয়। শিক্ষকরা যাতে অবসরভাতা বা বেতনের জন্য কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।