গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী রহমতখালী খালে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে জেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে পুকুরে চাষের জন্য মাছের পোনা তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা থেকে খাল পুনর্খননসহ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার যে বিপ্লব শুরু করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য বর্তমান সরকার নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দলমত নির্বিশেষে সবাই এই উদ্যোগগুলোকে অগ্রাধিকার দিলে অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং নদীমাতৃক বাংলাদেশে জনগণের জীবনযাত্রার ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খননের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে জলাশয়ে নিয়মিত পোনা অবমুক্তকরণের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর জেলার সার্বিক পরিবেশ ও প্রাণপ্রবাহের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রহমতখালী খালটি লক্ষ্মীপুরের মূল প্রাণ। খালটিতে জমে থাকা প্রচুর কচুরিপানা পরিষ্কার করে ইতিমধ্যে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নতুন করে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। সরকার গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান খান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।






















