পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের আশু মুক্তি এবং সরকারের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক সমঝোতা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে যাওয়ার ফলশ্রুতিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে এক বিশাল লংমার্চ শুরু হয়েছে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে দলের সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবনতি, উন্নত চিকিৎসার অভাব এবং একের পর এক আইনি জটিলতা নিয়ে দল ও পরিবারের ভেতর তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের লক্কি মারওয়াত শহর থেকে হাজার হাজার দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই বিক্ষোভ যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
মূলত সরকারের সঙ্গে পিটিআই নেতৃত্বের পূর্বনির্ধারিত আলোচনাগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পরই এই কঠোর রাজপথের কর্মসূচি বেছে নেয় দলটি। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন, ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের আইনি হয়রানি এবং তার স্বাস্থ্যের সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন না করার প্রতিবাদেই এই আন্দোলন অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির সরাসরি নেতৃত্বে এই লংমার্চটি বিভিন্ন জেলা ও জনপদ অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কাফেলাটি কারাক, কোহাত ও পেশোয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পথ পেরিয়ে আগামী ৮ অক্টোবর খায়রাবাদে সমবেত হবে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী চূড়ান্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।
এদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তিকামী এই গণমিছিলটি প্রতিহত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাজধানী ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ও সংযোগ সড়কগুলোতে শত শত পণ্যবাহী কনটেইনার বসিয়ে শক্তিশালী ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো অবস্থাতেই আন্দোলনকারীরা রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা কোনো ধরনের সহিংসতার চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে পিটিআই নেতারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে তাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে এবং আইনি কাঠামোর মধ্য থেকেই তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দুর্নীতির ডজন ডজন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন এই জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বর্তমান এই রাজনৈতিক সংঘাত ও লংমার্চ কেন্দ্র করে পুরো পাকিস্তানজুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।























