সম্ভাব্য বড় ধরনের আক্রমণের আশঙ্কার মুখে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড সামরিক ঘাঁটি থেকে নিজেদের সমস্ত কৌশলগত বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত রবিবার জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে মোট বারোটি বি-১ বোমারু বিমান ফেয়ারফোর্ড ত্যাগ করে সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডের উদ্দেশ্যে আকাশে ওড়ে। প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সঙ্গে আলাপকালে পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানান যে, কঠোর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক সম্পদ ও জনবলের এই আকস্মিক স্থানান্তর তৎক্ষণাৎ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, উক্ত ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলো নিরাপদে স্বদেশের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।
চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই ঘাঁটিতে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানগুলো মোতায়েন করা হয়েছিল। এমনকি মার্কিন গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের তত্ত্বাবধানে এই ঘাঁটি থেকেই সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘপাল্লার বিভিন্ন বিমান হামলা পরিচালনা করা হতো। বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ওই সামরিক ঘাঁটিতে কোনো সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি গোপন তদন্ত চলমান ছিল। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ এই বিমানঘাঁটির আশেপাশের এলাকা থেকে সন্ত্রাসবাদ ও বিস্ফোরক বহনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচ জন ব্রিটিশ নাগরিককে আটক করে। যদিও পরবর্তীতে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় এবং পুলিশি তল্লাশিতে ঘটনাস্থলে থাকা তিনটি ভ্যানে কোনো ধরনের বিস্ফোরকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করা হয়। সন্দেহভাজনদের এমন দ্রুত মুক্তির কড়া সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, তিনি ক্ষমতায় থাকলে কখনোই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন না। পরবর্তীতে গত ১ অক্টোবর এই একই অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী একজন ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনার পেছনে ইরানের সরাসরি সংযোগ থাকার বিষয়ে ‘অকাট্য ইঙ্গিত’ রয়েছে বলে গত সপ্তাহে মন্তব্য করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তিনি জানান, যথাসময়ে এই বিষয়ে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য প্রকাশ করা হবে, তবে তারা মনে করেন এই নাশকতার নেপথ্যে কোনো না কোনোভাবে তেহরানের হাত রয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই মূল্যায়নের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনেরও পূর্ণ মিল রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গণমাধ্যমকে জানান যে, এই ঘটনায় একটি বিদেশি পক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমেরিকার স্বার্থের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে চলা এমন কিছু পক্ষের বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নিয়েছেন এবং ইরান তাদের মধ্যে অন্যতম।
তবে তেহরান এই সমস্ত অভিযোগ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে প্রত্যাখ্যান করে সেগুলোকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর তেহরানস্থ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সেই বৈঠকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি লন্ডনের এহেন দৃষ্টিভঙ্গি অবিলম্বে পরিবর্তনের জন্য কঠোর আহ্বান জানান।























